‎সবার আগে কোয়ার্টার ফাইনালে অ্যাটলাসের সিংহরা ‎ ‎

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:১৭ এএম

‎২০২২ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে স্পেনকে টাইব্রেকারে হারিয়েছিল মরক্কো। এবার শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ সে তুলনায় অনেক সহজ, কানাডা। এবার আর টাইব্রেকার লাগলো না জয় পেতে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই ৩-০ গোলে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নরা। জয়ের নায়ক আজজেদিন উনাহি একাই করেছেন দুটি গোল।

‎কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার এই লড়াইয়ে এনআরজি স্টেডিয়ামে কানাডার মুখোমুখি হয়েছিল মরক্কো। ম্যাচের প্রথমার্ধে কানাডার হাই প্রেস ট্যাকটিক্স এবং শক্ত রক্ষণভাগের সামনে মরক্কোকে বেশ বেগ পেতে হয়। বল দখলে আফ্রিকার দলটি এগিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে পরিষ্কার কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা। উল্টো ফাউল ও হলুদ কার্ডের ছড়াছড়িতে ম্যাচ কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রথমার্ধের খেলা গোলশূন্যভাবেই (০-০) শেষ হয়। মরক্কোর আগের ম্যাচগুলোতে ৩ গোল করা ইসমায়েল সাইবারে ২০ মিনিটেই চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন।

‎তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই খোলস ছেড়ে বের হয় মরক্কো। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে চমৎকার এক সেট-পিস থেকে ডেডলক ভাঙেন আজজেদিন উনাহি। আশরাফ হাকিমি ফ্রি-কিক থেকে ডি-বক্সের ঠিক ভেতরে নিখুঁতভাবে বল বাড়িয়ে দেন উনাহির দিকে। চলন্ত বলেই দারুণ দক্ষতায় কানাডার গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপোকে পরাস্ত করে দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন উনাহি।


‎পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে কানাডা। মাঝমাঠের প্রাণশক্তি ইসমায়েল সাইবারির চোটজনিত অনুপস্থিতি সত্ত্বেও জোনাথন ডেভিড ও বিউকানানরা বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালালেও মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোকে (বোনো) তারা ফাঁকি দিতে পারেনি। ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে কানাডার ইউস্তাকিওকে ফাউল করেন মরক্কোর সোফিয়ান আমরাবাত। তবে ফ্রি-কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয় কানাডা।

‎কানাডা যখন গোলের জন্য মরিয়া, ঠিক তখনই ম্যাচের ৮২তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মরক্কোর জয় নিশ্চিত করেন উনাহি। কানাডার একটি আক্রমণ প্রতিহত করে পাল্টা আক্রমণে ওঠে মরক্কো। বক্সের ডান প্রান্ত থেকে ব্রাহিম দিয়াজ বল বাড়িয়ে দেন বক্সের মাঝখানে থাকা উনাহির দিকে। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় চমৎকার শটে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই মরক্কান তারকা। আগে জাতীয় দলের হয়ে ৯ গোল করা উনাহি বিশ্বকাপে এই প্রথম গোল করলেন।

‎ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে উনাহির পাস থেকে সুফিয়ান রাহিমির একটি হেড বারে লেগে ফিরে আসলে ব্যবধান তখনই ৩-০ হতে পারেনি। তবে কানাডা অলআউট আক্রমণে উঠলে তাদের রক্ষণভাগ পুরোপুরি অরক্ষিত হয়ে পড়ে, যার ফায়দা মরক্কো তোলে একদম শেষ মুহূর্তে।

‎​খেলার অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে (৯০+৮ মিনিট) কানাডার ডিফেন্সের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন সুফিয়ান রাহিমি। মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে তিনজনের এক বিধ্বংসী কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে মরক্কো। এবারও বল বানিয়ে দেন ব্রাহিম দিয়াজ; তার পাস থেকে বক্সের ভেতর বাম প্রান্ত দিয়ে বল পান রাহিমি। সামনে এগিয়ে আসা গোলরক্ষক ক্রেপোকে ফাঁকি দিয়ে বাম পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান তিনি।

‎​রেফারির শেষ বাঁশির সাথে সাথে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মরক্কো।

‎কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স বা প্যারাগুয়ের সংগে খেলবে মরক্কো।


×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত