পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের শিকার স্কুলছাত্রী ফাতেমা

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫১ এএম

পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাসায় প্রবেশ করে রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার লিলিকে গলা কেটে হত্যা করেছে বলে হোটেল কর্মচারী মিলনকে সন্দেহ করছে পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, বাসা ফাঁকা পেয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকা- ঘটিয়েছে মিলন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত যুবক পলাতক। এ ঘটনায় খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহত স্কুলছাত্রীর বাবা।

গতকাল রবিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ বনশ্রীর এল-ব্লকের ওই বাড়ির সামনে স্থানীয় লোকজন ভিড় করে আছেন। সবার চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ। অ্যাভিনিউ রোডসংলগ্ন টিনশেড বাড়ির ভেতরে চারটি কক্ষে একটি বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকত ফাতেমা। তিন ভাইবোনের মধ্যে সে ছিল দ্বিতীয়। ঘটনার সময় বড় বোন বাসার বাইরে এবং বাবা-মা গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। নিহত ফাতেমা রেডিয়্যান্ট স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাড়ির সামনে ‘শাহজালাল হোটেলের’ মালিক ফাতেমার বাবা সজিব তালুকদার। ওই হোটেলের কর্মচারীই তাকে হত্যা করেছে। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সেটা পরিষ্কার জানতে পারেননি তারা।

পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাতেমার থুতনির নিচে এক ইঞ্চি ও গলায় ছয় ইঞ্চি গভীর কাটার চিহ্ন রয়েছে। ফাতেমাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা জানতে ময়নাতদন্ত প্রয়োজন।

নিহতের বাবা সজিব তালুকদার অভিযোগ করেন, হোটেলের কর্মচারী মিলন ফাতেমাকে হত্যা করেছে। হত্যার পর বাসায় থাকা প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার ও প্রায় ৫ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে। পারিবারিক কারণে তিনি হোটেল বন্ধ রেখে পরিবারসহ হবিগঞ্জের লাখাইয়ে গ্রামের বাড়িতে যান। বাসায় তার দুই মেয়ে ছিল। হোটেল বন্ধ থাকায় যাওয়ার আগে মেয়েদের হোটেল কর্মচারী মিলনকে খাবার দিতে বলে যান। গত শনিবার বেলা ৩টার দিকে তিনি খবর পান, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। কর্মচারী মিলন মাস দুয়েক আগে হোটেলে যোগ দেয়। এর আগেও তিন-চার বছর আগে সে এখানে কাজ করেছে। এ কারণে আগে থেকেই তার সঙ্গে পরিচয় ছিল। অভিযুক্তের গ্রামের বাড়ি খুলনা অঞ্চলে।

নিহতের বড় বোন ঝুমুর আক্তার সাভা জানান, হোটেল বন্ধ থাকায় মিলন বাসা থেকে খাবার নিত। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সে খাবার নিতে এলে দেরিতে আসার কারণে ফাতেমা দরজা না খুলে দরজার নিচ দিয়ে খাবার দেয়। শনিবার দুপুরে মিলন খাবার নিয়ে তার সঙ্গে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরে সে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ফাতেমার গলায় রশি পেঁচিয়ে টেনেহিঁচড়ে রান্নাঘরে নিয়ে যায়। পরে সেখানে বঁটি দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। যাওয়ার আগে বাসা থেকে স্বর্ণ ও টাকা-পয়সা এবং ফাতেমার মোবাইল নিয়ে পালিয়ে গেছে। ফাতেমাকে গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক করবস্থানে দাফন করা হবে।

ঘটনার বিষয়ে খিলগাঁও থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত