শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (শাকসু) নির্বাচনে মোট ২৩টি পদে ৯৭ জন শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। কয়েকটি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতি থাকলেও মূল প্রতিযোগিতা হবে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের মধ্যে।
ডাকসু, জাকসু, রাকসু, চাকসু ও জকসু নির্বাচনের পর এবার শাকসুতেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে ইসলামী ছাত্রশিবির।
এ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৯ হাজার ১২৪ জন।
আগামী ২০ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় ২৯ বছর পর শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যার ফলে দীর্ঘ বিরতির পর ক্যাম্পাসে আবারও সরব নির্বাচনী আবহ ফিরে এসেছে। সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে শাকসু নির্বাচন হয়েছিল।
নির্বাচনে তিনটি প্যানেল অংশ নিচ্ছে। ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’, ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ এবং বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’।
এ ছাড়া কিছু পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, মূল লড়াই হবে শিবির ও ছাত্রদলের প্যানেলের মধ্যে।
শিবির সমর্থিত প্যানেলটি যদি জয় পায়, তাহলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংগঠনটি ধারাবাহিক সাফল্যের নতুন নজির গড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেল ২৩ পদেই প্রার্থী দিয়েছে। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন শিশির, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে মুজাহিদুল ইসলাম এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে মোহাম্মদ শাকিল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অন্যদিকে ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ ২২টি পদে প্যানেল ঘোষণা করেছে। এ প্যানেলে ভিপি পদে মুস্তাকিম বিল্লাহ, জিএস পদে মারুফ বিল্লাহ এবং এজিএস পদে জহিরুল ইসলাম জহির লড়ছেন।
বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ আংশিক প্যানেল নিয়ে ১৩টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
শিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন শিশির বলেন, শিক্ষাবান্ধব ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্য নিয়ে তারা প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও প্রস্তাবগুলো ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, তারা প্রথমে শিক্ষার্থীদের চাহিদা ও প্রত্যাশা শুনছেন, এরপর বাস্তবায়নযোগ্য বিষয়গুলো সামনে রেখে ভোট চাইবেন। তিনি বলেন ছাত্রদল ঘুরে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেছে।
শাকসু নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কমিশন কাজ করছে।
