লালমোহনে বালিশ চাপায় স্ত্রীকে হত্যা, স্বামী আটক

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম

ভোলার লালমোহন উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে মোসা রুনা বেগম নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গণেশপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

রুনা ওই এলাকার মো. হাফিজুর রহমানের মেয়ে। ঘটনার পর পালিয়ে যান স্বামী মো. জিহাদ। তবে বুধবার ভোর রাতের দিকে ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা লঞ্চঘাট থেকে তাকে আটক করে র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ টিম। জিহাদ একই ইউনিয়নের পাঙাশিয়া এলাকার মো. আলমগির হোসেনের ছেলে।

জানা গেছে, রুনা ও জাহিদ সর্ম্পকে মামাতো-ফুফাতো ভাইবোন। তবে গত ৭ মাস আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। বিষয়টি একাধিকবার পারিবারিকভাবে মিমাংসা করা হয়। বুধবারও রুনার মা সালিশের উদ্দেশ্যে জিহাদের বাড়িতে যান। সে সময় রুনা বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, জিহাদও নিজ বাড়িতে ছিলেন। সালিশের পরপরই জিহাদ রুনার বাড়িতে যান।

রুনার চাচি নূর জাহান বেগম বলেন, বুধবার সন্ধ্যার দিকে রুনার ঘর থেকে শব্দ পেয়ে আমি সেখানে যাই। এরপর ঘরে ঢুকে দেখি বিছানায় পড়ে রয়েছে রুনা। তার শরীর কম্বল দিয়ে ডাকা ছিল এবং বুকের ওপর একটি বালিশ রাখা ছিল। এরপর তাকে ডাকাডাকি করলেও তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে কম্বল সরিয়ে দেখতে পাই রুনার গলায় নখের আঁচড়ের দাগ এবং বিছানা প্রস্রাবে ভিজে রয়েছে। তার মুখে লালা এবং রক্ত ছিল। পরে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসককে খবর দিলে তিনি এসে রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে তার স্বামী জিহাদ পলাতক থাকায় তাকে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযানে ইলিশা লঞ্চঘাট থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী রুনা বেগমকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেছেন জিহাদ। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত