নওগাঁয় শিশুকে নদীতে ফেলে মায়ের আত্মসমর্পণ

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় ১৬ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে আত্রাই নদীতে ফেলে দিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন তার মা। তবে মায়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। স্থানীয় এক ব্যক্তি শিশুটিকে নদী থেকে তুলে প্রাথমিক শুশ্রূষা করছিলেন।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে। উপজেলার মাহমুদপুর সেতু থেকে শিশুটিকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম আঞ্জুমান আয়াত (১৬ মাস)। সে মেহেদী হাসানের মেয়ে। পরে তাকে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটি শঙ্কামুক্ত রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মা সন্তান জন্মের পর থেকেই অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটিকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের মাহমুদপুর সেতুতে যান তিনি। সেখানে শিশুটিকে আত্রাই নদীতে ফেলে দিয়ে সরাসরি পত্নীতলা থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান এবং নিজেকে গ্রেপ্তারের অনুরোধ করেন।শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বলেন, তার স্ত্রী কিছুদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। এ কারণেই অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনা ঘটেছে

খবর পেয়ে পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে তারা খমির শেখ নামের এক ব্যক্তিকে শিশুটিকে উদ্ধার করে শুশ্রূষা করতে দেখেন। পরে শিশুটিকে পুলিশের হেফাজতে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ওই নারী মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। চিকিৎসার জন্য তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধার করে জীবন বাঁচানোর জন্য খমির শেখকে পুলিশের পক্ষ থেকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত