ঢাকাকে বিদায় করে শেষ চারে রংপুর

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৭ এএম

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শুরুর আসরগুলোতে রাজধানী ঢাকার দলই হতো সবচেয়ে আকর্ষণীয়, সেরা সব তারকার সমাবেশ হতো ঢাকাতেই। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস, ঢাকা ডায়নামাইটস এই দলগুলোতে খেলেছেন ক্রিস গেইল, শহিদ আফ্রিদি, কুমার সাঙ্গাকারার মতো ক্রিকেটাররা। শনিবার ঢাকা ক্যাপিটালস যখন টিকে থাকার অন্তিম লড়াইতে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে একাদশ সাজাল, তাতে বিদেশি ক্রিকেটার মাত্র নিয়মরক্ষার ২ জন উসমান খান আর ইমাদ ওয়াসিম। গোটা  বিপিএলই অবশ্য বিগত যৌবনাদের আশ্রয়স্থল, তাদের ভেতর এখনো যাদের একটু নামধাম আছে তারা খেলছেন রংপুর আর রাজশাহীর হয়ে। দুই দলের ভেতর শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিলেন ডাভিড মালান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খ্যাতি পাওয়ার আগে বিপিএলে নজরকাড়া বামহাতি ইংলিশ ব্যাটসম্যান। তার ৪৯ বলে ৭৮ রানের ইনিংসটাই জিতিয়েছে রংপুরকে।

নুরুল হাসান সোহানের বদলে টস করতে এলেন নতুন অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। টসে হারলেন, কিন্তু পেলেন আগে ব্যাটিংয়ের সুযোগ। দিনের ম্যাচে আগে ব্যাটিং করাটা একটা জুয়া, যে জুয়ায় জিততে হলে বড় কলজে লাগে। মালান আর তাওহীদ হৃদয় সেই সাহসের পরিচয়টা দিয়েছেন, শুরু থেকেই তারা এমনভাবে ব্যাট করেছেন যেন দলের রানটা দুইশ’র কাছাকাছি যায়। প্রথম পাওয়ার-প্লেতে ৫০ রান, কোনো উইকেটের পতন নয়। উদ্বোধনী জুটি ১২৬ রানের, ১৫তম ওভারের প্রথম বলে আউট হয়েছেন মালান। ৮৫ বলে ১২৬ রানের জুটিতে মালানের অবদান ৪৯ বলে ৭৮ রান, হৃদয় ৩৬ বলে ৪৫। মালান ৬ মেরেছেন ৪টি, চার মেরেছেন ৮টি। মালানের আউটের পর ওয়ান-ডাউনে নামলেন কাইল মেয়ার্স, ১৬ বলে ২৪ রান করে তিনি ছন্দটা ধরে রেখেছেন। ৪৬ বলে ৬২ রান হৃদয়ের। বিশ্বকাপ যতই এগিয়ে আসছে, হৃদয় ততই সাবধানী ইনিংস খেলছেন। রাজশাহীর বিপক্ষে তার এই ধরনের ইনিংস দলকে জেতাতে পারেনি, ঢাকার বিপক্ষেও হয়তো পারত না যদি না মালান থাকতেন অন্যপ্রান্তে।

আর্যভট্ট শূন্য আবিষ্কার করে বিপদেই ফেলে দিয়েছেন লিটন দাসকে। তার পিছু ছাড়ছেই না সংখ্যাটি, বিশেষ করে নেতৃত্বে অভিষেকের মনে রাখার মতো মুহূর্তটা মাটি করে দেয় শূন্য। টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব লিটন পেয়েছেন দুই দফায়, একবার ২০২১ সালে নিউজিল্যান্ডে আপৎকালীন আর পরের বার ২০২৪ সালে, দুইবারই লিটন আউট হয়েছেন ০ রানে। রংপুরের অধিনায়ক হয়েও লিটনের অভিষেক মুহূর্তটা মাটি করল শূন্য, আউট হয়েছেন সাইফ উদ্দিনের বলে আব্দুল্লাহ আল মামুনের হাতে ক্যাচ দিয়ে। ১৪ ওভারে ১২৬ থেকে ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ১৮১। দুইশ’র সম্ভাবনা জাগিয়েও করতে না পারার মূল কারণ মালানের অন্তর্ধান। ৩৩ রানে ২ উইকেট নিয়ে সাইফ উদ্দিনই ঢাকার সেরা বোলার।

১৮২ রান করার সামর্থ্য যে ঢাকা ক্যাপিটালসের নেই, সেই কথাটা খুব সম্ভবত দলটির টিম বয়ও বিশ্বাস করে। গোটা আসরে যাদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ১৬৭, তাও পরে ব্যাট করে; সেখানে এই ম্যাচে ঢাকা এই রানটা তাড়া করে জিততে পারবে সেটা দলের খেলোয়াড়রাও ভাবেননি। উসমান মেয়ার্সের করা প্রথম বলে ৬ সহ প্রথম ওভারে ১৭ রান নিয়ে যে শুরুটা এনে দিয়েছিলেন, সেটা ধরে রাখতে পারেননি। তার ১৮ বলে ৩১, সাইফ হাসানের ৬ বলে ১২, আব্দুল্লাহ আল মামুনের ১ বলে ০, সাব্বির রহমানের ৯ বলে ৮, মোটামুটি প্রথম ৩১ বলেই দলীয় ৫৩ রানে যখন ৪ উইকেট নেই তখন পরিণতি স্পষ্ট। বিশ্বকাপের দলে থাকা শামীম হোসেনও ১১ বলে ১০ রানের বেশি করতে পারেননি। বছরের প্রথম দিনে একটা ৮১* রানের ইনিংস খেলেছিলেন, এরপর ২৯, ১০, ৭ আর ১ রানই হচ্ছে তার পরের সেরা ইনিংসগুলো! ধর্মঘটের নেতৃত্ব দেওয়া কোয়াব প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাটিং সমালোচকদের আরও কিছু অস্ত্র তুলে দিল। খেলা থামিয়ে রাখার পর দর্শকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে মিঠুনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিসংখ্যান বের করে প্রশ্ন তুলছিলেন তার ক্রিকেটার হিসেবে যোগ্যতা নিয়ে। ১৮২ রান তাড়ায় যে অধিনায়ক ২৯ বলে ২৫ রানের ইনিংস খেলেন তার যোগ্যতাটা দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট। শেষ ৬ বলে যখন জয়ের জন্য ঢাকার চাই ৩১ রান, তখন ৩টা ছক্কা মেরেছেন সাইফ উদ্দিন। তাতে ব্যবধান কমলেও ঢাকার জয়ের সম্ভাবনা বিন্দুমাত্র জাগেনি। ৬, ডট, ওয়াইড, ডট, ৬, ডট, ৬। এমন নয় যে রিংকু সিংয়ের মতো অবিশ্বাস্য একটা সমীকরণ মিলিয়ে ফেলতে পারতেন সাইফ উদ্দিন, সেই সম্ভাবনাই তো জাগেনি!

১১ রানে ঢাকাকে হারিয়ে ১০ পয়েন্ট পেয়ে টেবিলের চারে উঠে এলো রংপুর। সমান ম্যাচে ঢাকা আটকে থাকল ৪ পয়েন্টেই, ফলে তাদের প্লে-অফে সুযোগ পাওয়ার সব সম্ভাবনাই শেষ। বরং রংপুরের সামনে সুযোগ আছে আজ শেষ ম্যাচে নোয়াখালীকে হারিয়ে এলিমিনেটর এড়ানোর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত