নবীজির প্রিয় ৩ জিকির, করা যায় অজু ছাড়াও

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

মহান আল্লাহ জিন ও মানুষ সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তার ইবাদতের জন্যে। তাই তো মানুষের উচিত সবসময় মহান আল্লাহর ইবাদতে মত্ত থাকা। আর ইবাদতের মধ্যে জিকিরের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক।  কারণ এটি সব ইবাদতের প্রাণ ও সারমর্ম, যা সর্বাবস্থায় আল্লাহর স্মরণ ও তার নৈকট্য লাভের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এছাড়া এটি হৃদয়ের প্রশান্তি আনে, শয়তানের ধোঁকা থেকে রক্ষা করে এবং সকল আমলের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। যা অন্তর ও মুখ উভয়ভাবে পালিত হয়। জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহ ও তার বান্দার মধ্যকার সম্পর্ককে দৃঢ় করে।

নবীজির প্রিয় জিকিরের ভিত্তি হাদিসে সুপ্রতিষ্ঠিত আছে। আর নবী করিম (সা.) প্রিয় তিনটি জিকির অজু ছাড়াও করা যায়।

ইস্তিগফার পাঠ 

দিনের সবসময় ইস্তিগফার পাঠ করা যায়। ইস্তিগফার পাঠে বান্দার অভাব মোচন হয়। পাপাচার ক্ষমা করা হয়। সন্তান-সন্ততির অভাব থাকে না-রিজিকেও আসে পরিপূর্ণ বরকত। অভাবমুক্ত থাকতে।

পবিত্র কুরআনে বেশি বেশি ইস্তিগফার পাঠের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যার ফলে মহান আল্লাহ মানুষকে উত্তম রিজিকসহ অসংখ্য নেয়ামতে ধন্য করবেন বলেও জানিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন,

فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّاراً*يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَاراً*وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَاراً

অর্থ: অতঃপর বলেছি-তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্য নদী-নালা প্রবাহিত করবেন। (সুরা নুহ, আয়াত : ১০-১২)

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বিবরণে আছে রসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি লাগাতার তওবা-ইস্তিগফার করবে; মহান আল্লাহ সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন; সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ১,৫১৮; ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩,৮১৯; মুস্তাদরাকে হাকেম, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৯১, হাদিস: ৭,৬৭৭)

দরুদ পাঠ 

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ দরুদ পাঠ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন,

اِنَّ اللّٰهَ وَ مَلٰٓئِکَتَهٗ یُصَلُّوۡنَ عَلَی النَّبِیِّ ؕ یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا صَلُّوۡا عَلَیۡهِ وَ سَلِّمُوۡا تَسۡلِیۡمًا

অর্থ: নিঃসন্দেহে আল্লাহ ও তার ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পাঠান, হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরাও নবীর ওপর দরুদ পাঠাতে থাকো এবং উত্তম অভিবাদন (সালাম) পেশ করো।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ৫৬)

আল্লাহ তাআলার এই নির্দেশ একদিকে যেমন আল্লাহর কাছে তার রাসুলের মর্যাদার প্রমাণ অন্যদিকে মুমিন বান্দার রহমত, বরকত ও অবারিত কল্যাণ লাভের অন্যতম উপায়।

হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.) বলেন, একবার রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর জিকিরের খুব তাকিদ করলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি আপনার প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করে থাকি। আমি আমার দোয়ার কতভাগ আপনার জন্য নির্ধারণ করব?

তিনি বললেন, তোমার যে পরিমাণ ইচ্ছা। আমি বললাম, চার ভাগের এক ভাগ? তিনি বললেন, তোমার যতটুকু ইচ্ছা। তবে বেশি করলে আরও ভালো। আমি বললাম, তাহলে অর্ধেক? তিনি বললেন, তোমার যতটুকু ইচ্ছা। তবে বেশি করলে আরও ভালো। আমি বললাম, তাহলে তিন ভাগের দুই ভাগ? তিনি বললেন, তোমার যতটুকু ইচ্ছা হয়। তবে বেশি করলে আরও ভালো। আমি বললাম, তাহলে কি আমার দোয়ার পুরোটাই হবে আপনার প্রতি দরুদ? তিনি বললেন, তবে তো তোমার উদ্দেশ্য অর্জন হবে, তোমার গুনাহ মাফ করা হবে।’ (তিরমিজি: ২/৭২)

সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহর জিকির করা

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাছের একটি ডাল ধরে ঝাঁকি দিলেন, কোনো পাতা পড়ল না। তিনি আবার ঝাঁকি দিলেন; এবারও কোনো পাতা পড়ল না। তবে তৃতীয়বার ঝাঁকি দেওয়ার পর অনেক পাতা ঝরল। তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,

নিশ্চয় সুবহানাল্লাহ, আলহামদু লিল্লাহ, লা-ইলা-হা ইল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলা বান্দার গুনাহ ঝরিয়ে দেয়, যেমন (শীতকালে) গাছ তার পাতা ঝরায়। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১২৫৩৪)

জিকিরগুলো হলো

. سُبْحَانَ اللَّهِ  : সুবহানাল্লাহ : আর আল্লাহ তাআলা অতি পবিত্র।

. اَلْحَمْدَ لِلَّهِ  : আলহামদুলিল্লাহ : সব প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য।

. لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ  : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু : আর আল্লাহ তাআলা ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই।

. وَاللَّهُ أَكْبَرُ : ওয়াল্লাহু আকবার : এবং তিনি অতি মহান।

এর মধ্যে যে কোনো একটি দিয়ে শুরু করা যায়, যা আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় এবং দুনিয়ার সবকিছুর চেয়ে উত্তম। এছাড়াও লা হাওলা ওয়া লা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও ক্ষমতা নেই) জিকিরটিকে জান্নাতের ধনভাণ্ডার বলা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত