এনসিপির ইশতেহারে থাকছে সংস্কার ও বেকারত্ব নিরসন

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৯ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় প্রস্তুতি শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতার পাশাপাশি দলটি নির্বাচনকেন্দ্রিক ইশতেহার চূড়ান্তের শেষ ধাপে রয়েছে। সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণহত্যার বিচার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নারীদের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে তারুণ্যনির্ভর একটি বাস্তবসম্মত ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে এনসিপি।

ইশতেহারের মূল মটো নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সুশাসন, সংস্কার, সার্বভৌমত্ব’। ইশতেহারে জাতীয় শিক্ষানীতি, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং জুলাই চেতনার বাস্তবায়নও ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। দলীয় সূত্র জানায়, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে এনসিপি ইতিমধ্যে ২৭ জন প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করেছে। যদিও জোটের শরিক হিসেবে নির্বাচন করবে দলটি, তবে নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরতে এককভাবে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করবে এনসিপি। পাশাপাশি ইশতেহার নিয়ে জোট নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং কিছু বিষয় জোটের সবার জন্য অভিন্ন থাকবে বলেও জানান নেতারা।

এনসিপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইশতেহার প্রণয়নের ক্ষেত্রে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা গভীরভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও মতামতের প্রতিফলনের পাশাপাশি একটি বাস্তবসম্মত ও সংস্কারমুখী রাজনৈতিক রূপরেখা উপস্থাপনই ইশতেহারের লক্ষ্য। নেতাদের মতে, নির্বাচনী ইশতেহার কেবল প্রতিশ্রুতির তালিকা নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কার ও তরুণদের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। তাছাড়া, কোনো লোক দেখানো অবাস্তব ইশতেহার দেবে না বলেও জানিয়েছে দলটির কয়েকজন নেতা।

নেতারা জানান, নতুন বাংলাদেশ গঠনে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায় ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানকে ইশতেহারে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। জোটের নেতারা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা শেষে ইশতেহার চূড়ান্ত করে শিগগিরই তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। এর আগে গত আগস্টে ‘দ্বিতীয় রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন সংবিধান প্রণয়ন, জুলাই অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারসহ ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছিল এনসিপি। সেই ২৪ দফার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নতুন করে পরিমার্জন, পরিবর্ধন ও সময়োপযোগী করে এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে জানান দলটির নেতারা।

নেতারা বলেন, এই দফাগুলোর মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সংস্কার, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার রূপরেখা তুলে ধরা হবে। বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে তরুণদের বিষয়টি। দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সংকট নিরসন, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরি এই তিনটি স্তম্ভকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা থাকতে পারে ইশতেহারে। প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্র, নতুন শিল্প খাত সৃষ্টি এবং স্টার্টআপ সংস্কৃতি গড়ে তোলার কথাও সেখানে উল্লেখ থাকতে পারে।

এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহবুব আলম বলেন, এনসিপির ইশতেহার প্রণয়ন প্রায় শেষের দিকে। এবার এনসিপি তারুণ্যনির্ভর ইশতেহার দেবে। তাছাড়া, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ইশতেহারে গুরুত্বপূর্ণ অংশ থাকবে। তাছাড়া, নারীদের নিরাপত্তায় জোর দিতে চায় এনসিপি।

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের জোট মনোনীত প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা তরুণদের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয় মাথায় রেখে কাজ করব। ২২ তারিখ থেকে জোটের সঙ্গে মিলে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রচার শুরু করব, মানুষের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার চেষ্টা করব। ইনশাআল্লাহ এবার ১০ দলীয় জোটের বিজয় হবে।

ইশতেহারে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা এই নির্বাচনে বাস্তবসম্মত ইশতেহার দেব। এনসিপি তরুণদের কর্মসংস্থানের যে সংকট তা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কাজ করবে। কীভাবে বাস্তবসম্মতভাবে কর্মসংস্থান বাড়ানো যায় তা নিয়ে আমাদের কাজ চলছে। তিনি বলেন, এনসিপি নারী অধিকারের দিকেও ফোকাস এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করবে। নারীদের গৃহস্থালি কাজের অর্থনৈতিক স্বীকৃতির বিষয়টিও ইশতেহারে থাকবে। তাছাড়া, আমরা ধনী-দরিদ্র বৈষম্য দূর করে সমান স্বাস্থ্যসেবা যেন সবাই পায় তা নিয়ে কাজ করব।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি এনসিপি নেতা এহতেশাম হককে প্রধান করে ইশতেহারবিষয়ক একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে সেক্রেটারি হিসেবে ইশতিয়াক আকিব এবং সদস্য হিসেবে জাহিদ আহসান, তৌকির আজিজ, আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল, মুনা হাফসা, সাইফুল ইসলাম ও তুহিন মাহমুদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই উপ-কমিটি বিশেষজ্ঞ দল ও বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে ইশতেহার প্রণয়ন করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত