যথেষ্ট সংস্কার হয়েছে আরও হতে পারত

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৬ এএম

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যত সংস্কার হয়েছে, দেশের ইতিহাসে এর আগে এত কম সময়ে তেমনটি হয়নি মন্তব্য করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘যথেষ্ট সংস্কার হয়েছে। সময়ের বিবেচনায় হয়তো আরও সংস্কার হতে পারত।’ গতকাল রবিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন’ শীর্ষক নীতি সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠান আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। এতে রাজনীতিক, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘অনেকে বলেন, কোনো সংস্কার হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শুধু ফিন্যান্সিয়াল ও ব্যাংকিং সেক্টরে যে সংস্কার হয়েছে, তার ফল সবাই দেখতে পাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল আছে। এগুলো সংস্কার ছাড়া করা সম্ভব ছিল না। তাই কোনো সংস্কার হয়নি কথাটি ঠিক নয়। যথেষ্ট সংস্কার হয়েছে। সময়ের বিবেচনায় হয়তো আরও হতে পারত।’ তিনি বলেন, ‘যে কমিশনগুলো (সংস্কারের উদ্দেশ্যে) করা হয়েছে, এত এক্সটেনসিভ লেভেলে কনসালটেশন ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন করার সময়ও করা হয়নি।’

সংলাপে ‘মব’ শব্দটি বলার পেছনে বিপ্লবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটা মানসিকতা কাজ করে বলে মন্তব্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এই ‘মব’ শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন ও সংযত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে তার এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে একাধিক রাজনীতিক মব নিয়ে তাদের আশঙ্কা ব্যক্ত করে বক্তব্য দেন।

সংলাপে সূচনা বক্তব্য দেন সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করীম আব্বাসি। তিনি বলেন, ‘এখন বিচার বিভাগের নয়, মবোক্রেসির রুল দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি যদি এমন থাকে যে, তথাকথিত তৌহিদী জনতা আইন নিজের হাতে নিতে পারে এবং দোষীদের শাস্তি দিতে গড়িমসি চলে, তখন আইনের শাসন নিশ্চিত করতে যত প্রতীকী ব্যবস্থাই নেওয়া হোক, তা যথেষ্ট নয়।’

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “গণভবনের পতনের এই বিপ্লবের যে অর্জন, সেটার সঙ্গে ‘মব’ শব্দটি বারবার ব্যবহার করে বিপ্লবীদের প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা কোনো মহলে থাকলে তাদের সংযত হওয়া উচিত।” মামলার জট ও এর সমাধান প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, ‘উচ্চ ও অধস্তন আদালতে ৪৭ লাখ মামলা বিচারাধীন। বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি, দক্ষ ও গতিশীল বিচারক না থাকলে এ মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়।’

সিপিবির (বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘আইনের শাসন চাইবেন, আবার মবকে উসকানো হবে, এটা চলতে পারে না।’ বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ মব নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করে বলেন, সরকার তাদের ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য মবকে উৎসাহিত করছে।

অনুষ্ঠানে আলোচকদের মধ্যে আরও ছিলেন গণফোরাম সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জাপা মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বিএনপি নেত্রী নিলুফার চৌধুরী মনি, ব্রিটিশ স্কুল অব ল’র ভাইস প্রিন্সিপাল ব্যারিস্টার নুসরাত খান, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ ইকতেদার আহমেদ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিহাব উদ্দিন খান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত