লিবিয়ায় গোপন ভূগর্ভস্থ কারাগারের সন্ধান, ২০০ অভিবাসীকে উদ্ধার

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম

আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি গোপন ভূগর্ভস্থ কারাগারের সন্ধান পেয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।কুফরা শহরে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ওই কারাগার থেকে দুই শতাধিক অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) স্থানীয় নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো জানায়, প্রায় তিন মিটার গভীরে অবস্থিত একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় অমানবিক পরিবেশে অভিবাসীদের আটকে রাখা হয়েছিল।

নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কারাগারটি পরিচালনা করছিল এক লিবীয় মানব পাচারকারী। তবে অভিযানের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার হওয়া কয়েকজন অভিবাসী জানিয়েছেন, তাদের কেউ কেউ টানা দুই বছর পর্যন্ত ওই অন্ধকার কক্ষে বন্দি ছিলেন।

একটি সূত্র এই ঘটনাকে ওই অঞ্চলে মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অন্যতম ভয়াবহ অপরাধ বলে উল্লেখ করেছে। অভিযানের সময় একাধিক ভূগর্ভস্থ আটক কক্ষের সন্ধান পাওয়া যায়, যেখানে চরম নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের আলামত দেখা গেছে।

উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের বেশিরভাগই সাব-সাহারান আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক। তাদের মধ্যে সোমালিয়া ও ইরিত্রিয়ার মানুষ বেশি রয়েছে। নারী ও শিশুও এই দলে অন্তর্ভুক্ত বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো। কুফরা শহরটি লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় এক হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত গণঅভ্যুত্থানে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া ইউরোপ মুখী অভিবাসীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। সংঘাত, দারিদ্র্য ও নিরাপত্তাহীনতা থেকে পালিয়ে ইউরোপে পৌঁছাতে গিয়ে বহু মানুষ সাহারা মরুভূমি ও ভূমধ্যসাগরের বিপজ্জনক পথ বেছে নিতে বাধ্য হন। যদিও তেলনির্ভর অর্থনীতির কারণে লিবিয়ায় কাজের আশায় অনেক অভিবাসী প্রবেশ করেন, তবে দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে পাচারকারী চক্র তাদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালায়।

এর আগে গত সপ্তাহে পূর্ব লিবিয়ায় একটি গণকবর থেকে অন্তত ২১ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও প্রায় ১০ জন জীবিত অভিবাসীর শরীরে বন্দিদশায় নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল দপ্তর জানায়, গণকবরের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিবাসীদের ওপর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত