জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আকস্মিকভাবে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আগামী শুক্রবার সংসদের নিম্নকক্ষ ভেঙে দিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি আগাম জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে তাকাইচি বলেন, এই নির্বাচনে আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাজি রাখছি। দেশের পরিচালনার দায়িত্ব জনগণ আমাকে দেবে কিনা, সে বিষয়ে সরাসরি তাদের রায় চাই।
তাকাইচি জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মাথায় এ ঘোষণা এলো। তিনি জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।
সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, এর ফলে দেশজুড়ে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৬৫টি আসনের জন্য ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। উচ্চ জনসমর্থনকে কাজে লাগানো এবং ক্ষমতাসীন জোটের ভেতরে অবস্থান আরও সংহত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বর্তমানে তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) সংসদে ১৯৯টি আসন নিয়ে সবচেয়ে বড় দল। জাপান ইনোভেশন পার্টির সঙ্গে জোট গড়ে তারা অল্প ব্যবধানে কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে। গত অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন জনমত জরিপে তার সরকারের জনপ্রিয়তা ৬০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
আকস্মিক নির্বাচন ঘোষণার উদ্যোগের পেছনে সাম্প্রতিক সময়ের সক্রিয় পররাষ্ট্রনীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গত ডিসেম্বরে তাকাইচি রেকর্ড ৯ ট্রিলিয়ন ইয়েনের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন দেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে বিরল খনিজ সংক্রান্ত চুক্তি এবং এক যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন দুই দেশের নেতারা যেখানে দেশ দুটির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে স্বর্ণযুগ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।
