শিবপুরে বৃদ্ধের জমি আত্মসাতের পাঁয়তারা ফারুক-রমজান চক্রের

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৩ পিএম

নরসিংদীর শিবপুরে চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও জালিয়াতি চক্রের প্রধান মো. ফারুক ও মো. রমজান আলী   বিরুদ্ধে এক বয়োবৃদ্ধর জমি মিথ্যা ও জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের পায়তারা অভিয়োগ পাওয়া গেছে।

বয়োবৃদ্ধ ও নিরক্ষর হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে সম্পত্তি হাতানোর বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে ভূমিদস্যুদের সংঘবদ্ধ চক্র প্রধান ফারুক ও রমজান আলী। এখন এই চক্রের হাত থেকে রেহাই পেতে আমি দ্বারে দ্বারে ঘুরছি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভুগি মো. রফিকুল ইসলাম, । আমি অসহায় হওয়ায় আমাদেরকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে এই রমজান ও ফারুক, চক্র।  

জমির খারিজ করার দালালি দিয়ে স্বাক্ষর করার কথা বলে বায়না দালিলে স্বাক্ষর করে হয়রানি করছে রমজান আলী ও মো. ফারুক চিহ্নিত দুজন ভূমিদস্যু। এভাবে কাজকর্ম করে, এমন বেশ কয়েকটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বাংলাদেশে। এই চক্রের অন্যমত নরসিংদির শিবপুর এলাকার মো. রমজান আলী ও মো. ফারুক।

গোয়েন্দা সূত্র জানায় রমজান আলী ও ফারুক, কয়েক কোটি টাকার মালিক। রমজান আলী ও ফারুক, ভুয়াকাগজ পত্র তৈরি করে জালজালিয়াতির মাধ্যমে জমিদখল করা তাদের পেশা ও দৈনন্দিন কর্ম।

সুত্র আরো জানায়, ফাসিস্ট সরকারের আমলের মো. রমজান আলী ও মো. ফারুক, গড়ে তুলছ ভূমিদস্যু ও জাল-জালিয়াতর বিশাল সিন্ডিকেট। সময় এর ব্যবধানে নিজেই হয়ে উঠেছেন একজন ভুমিদূস্যু ও জাল-জালিয়াত সম্রাট। গড়েছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়।

মো. রফিকুল ইসলাম, পিতাঃ মৃত মো. নিজাম উদ্দিন নরসিংদি জেলাস্থ শিবপুর উপজেলার ধনাইয়া গ্রামের একজন স্থায়ী বাসিন্দা ও হত দরিদ্র কৃষক ও নিরক্ষর মানুষ । মো. রফিকুল ইসলাম, বলেন বয়োবৃদ্ধ হওয়ায় আমার ৫২.৫ শতাংশ জমি খারিজ ও নামজারি করার জন্য ভুমি অফিসে গেলে পরিচয় হয়   রমজান আলী (২৮), পিতা মফিজউদ্দীন এবং ফারুক (৩২), পিতা সাত্তারের সঙ্গে।

মো. ফারুক নামজারি বাবদ ৩ লাখ ৮০ লাখ টাকা বিভিন্ন সময়ে আমার কাছ থেকে নেয়। আমার মূল দলিল সমূহ ও পর্চাসহ যবতীয় কাগজ পত্র আমার কাছ থেকে নিয়ে নেয়। 

টাকা দেওয়ার মাস খানেক পর রমজান আলী ও ফারুক ফোন করে আমাকে জানায় যে আমার জমির খারিজ হয়ে গেছে এবং খারিজ বাবদ কিছু কাগজে (শিবপুর বাজার জনতা ব্যাংকের নিচে) স্বাক্ষর করতে হবে। আমি বয়োবৃদ্ধ ও নিরক্ষর হওয়ার কারণে সরল বিশ্বাসে তাদের কথামত কাগজে সই করে দেই।

স্বাক্ষর করে বাড়ীতে যাওয়ার পর লোক মুখে শুনতে পারি যে আমি আমার জমি বাবদ রমজান ও ফারুকের নিকট হতে ২৫ লাখ টাকা করে সর্বমোট ৫০ লাখ টাকা নিয়েছি যা তারা বায়না দালিলে স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমার কাছ থেকে নিয়ে নিয়েছে। এ মূহুর্তে চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও জালিয়াতি চক্রের প্রধান রমজান আলী ও ফারুক, আমার কাছে টাকা ফেরত চায়।

রমজান আলী ও ফারুক আমার বাড়ির গাছ জোরপুর্বক কর্তন করে নিয়ে গেছে এবং আমার জমির মূল কাগজ গুলো আটকে রেখেছে ও প্রাননাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এ মূহুর্তে আমি ও আমার বয়োবৃদ্ধ স্ত্রী প্রাননাশের আশঙ্কায় রয়েছি। প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় আমি মো. রমজান আলী, মো. ফারুক ও কাজলের বিরুদ্ধে নরসিংদির শিবপুর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী যাহা নাম্বার ৯৯২। এসব জাল-জালিয়াতির তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির।

গ্রাম্য পঞ্চায়েতের সঙ্গে জড়িত ওই এলাকার মো. মুতি মিয়া তিনি অভিযোগ করে বলেন, ফারুক ও রমজান আলী এলাকায় ভূমির দালাল, এমনকি ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত। জমি সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করাই তার কাজ। তার নির্দিষ্ট কোনো আয়ের উৎস নেই। জাল-জালিয়াতি করেই তিনি রাজার হালে চলেন। একই অভিযোগ করেছেন স্থানীয় অসহায় ব্যক্তিবর্গরা।

এলাকায় সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তিরা দালাল ফারুক সম্পর্কে বলেন, ভূমিদস্যু দালাল ফারুক অনেকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, এ খবর আমরা পেয়েছি। তিনি এলাকার নিরক্ষর লোকদের জায়গার দলিলাদি নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন। ভূমি কার্যালয়ে দৌড়াদৌড়ি তার কাজ।

এ ব্যাপারে কথা বলতে অভিযুক্ত ফারুক সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে, তার মোবাইল ফোনটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত