এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘হুমকি’ দিয়েছেন চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের র্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার প্রধান আসামি সেই ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান ইয়াসিন। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া তার একটি ভিডিওতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হুমকি দিয়ে ইয়াসিন বলেছেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের নামে ঢালাওভাবে গ্রেপ্তার করতে দেওয়া হবে না। কাউকে ধরতে হলে অভিযানের আগে আসামির নাম-ঠিকানা জানাতে হবে।’ গত বুধবার বিকেলে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগরে নিজের কার্যালয়ে এসব বক্তব্য দেন ইয়াসিন।
বক্তব্যে তিনি (ইয়াসিন) বলেন, ‘এসব ক্রাইমের ফান্দে পাড়া দিয়া কেউ যদি কোনো ঝামেলা করে, এতে কিন্তু বড় ধরনের পাবলিক বিস্ফোরণ ঘটবে।’ ওই ভিডিওতে তিনি সন্ত্রাসী নন বলে দাবি করে বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরের জায়গা তাদের ক্রয় করা সম্পত্তি। সেখান থেকে তাদের কেউ উচ্ছেদ করতে পারবে না। এর আগে সাবেক এক জেলা প্রশাসক জঙ্গল সলিমপুরে উচ্ছেদ করতে গিয়ে নিজেই এখন উধাও হয়ে গেছেন।
বক্তব্যে একাধিকবার জনবিস্ফোরণের হুঁশিয়ারি দিয়ে ইয়াসিন বলেন, ‘...অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা যদি এই এলাকায় হয়, এতে কিন্তু জনবিস্ফোরণ ঘটবে। এই জনবিস্ফোরণের দায়ভার প্রশাসনকে নিতে হবে।’ জঙ্গল সলিমপুরে গত সোমবার পরিচালিত র্যাবের অভিযানের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইয়াসিন। র্যাব সদস্যরা কেন অভিযান পরিচালনা করেছেন, তা তদন্ত করার দাবি জানান তিনি। এ ছাড়া চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক (বহিষ্কৃত) রোকন উদ্দিনকে জঙ্গল সলিমপুরে অস্থিরতার জন্য দায়ী করেন। সোমবার বিকেল ৪টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। গত বুধবার রাতে এ ঘটনায় সীতাকু- থানায় মামলা করে র্যাব। এতে প্রধান আসামি করা হয় মোহাম্মদ ইয়াসিনকে। মামলায় ইয়াসিন, নুরুল হক ভা-ারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় আরও ২০০ জনকে। ইয়াসিনের হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে সীতাকু- থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘ইয়াসিন তার আলীনগরের কার্যালয়ে বসে এই বক্তব্য দিয়েছেন। ইয়াসিনকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।’
র্যাবের অভিযানের বিষয়ে মহাপরিচালক এ কে এম শহীদুর রহমান বলেন, ‘৫০ জনের ওপরে র্যাব সদস্য ছিলেন। অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করা যাবে এমন ধারণার বশবর্তী হয়ে তারা সেখানে যান। এখন একটা তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। তারা অনুসন্ধান করে দেখবে, অভিযানে কোনো ত্রুটি ছিল কি না।’
