বগুড়ায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভা শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্য ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটকে হ্যাঁ বলুন। কোনো ভোটকে, গণভোটকে হ্যাঁ বলুন। গণভোটকে হ্যাঁ বলা মানে, দুর্নীতি, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, ফ্যাসিবাদকে দখলবাজিকে না বলা। আর এর বিরুদ্ধে মানবিক বাংলাদেশকে হ্যাঁ। আপনারা সবাই হ্যাঁ ভোট দিবেন তো ইনশাআল্লাহ। আমরা ১০টা দল একত্রিত হয়েছি। এর অর্থ হচ্ছে আমরা দশে মিলে দেশটা গড়তে চাই। ৩টা শর্ত মানতে হবে। নিজে দুর্নীতি করবেন না, অন্য দুর্নীতি করতে বগলের নিচে জায়গা দিবেন না। ন্যা বিচার নিশ্চিত করতে হবে। যতই প্রভাবশালী ব্যক্তিই হোক না কেন বিচারের দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারবে না। বিচার বিভাগকে স্বাধীন ভাবে চলতে দিতে হবে। ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার সকলের আছে। যে বস্তা পচা রাজনীতি গত ৫৪ বছর এদেশে ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে, দুর্নীতিবাজের জন্ম দিয়েছে লুটেরাদের জন্ম দিয়েছে, দুঃশাসনের জন্ম দিয়েছে, আয়নাঘরের জন্ম দিয়েছে। এর বিপক্ষে সংস্কারের যে প্রস্তাব দিয়েছে, ওইটাই গণভোট। সেই ভোটে হ্যাঁ দিয়ে সংস্কারের সবগুলো প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হবে। যারা আমাদের সাথে থাকবেন, আমাদের এই তিন শর্ত মানবেন। তাদের নিয়ে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে জনগণকে সাথে আগামী ৫ বছর দেশ চালাবো ইনশাআল্লাহ। আমরা ঐক্যের বাংলাদেশ চাই।
তিনি বলেন, আমাদের প্রতিহিংসার রাজনীতি সব জায়গায় ছোবল দেয়। বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক মানের ছিল। সেটা ধ্বংসের দারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সেখানে আন্তর্জাতিক মানের খেলার ব্যবস্থা করব। এই বগুড়া উত্তরবঙ্গের রাজধানী। আমরা এই বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উনৃনত করব। বহু জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে এই বগুড়ায় হয়নি, আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বগুড়া সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করব। আমরা এদেশের উন্নয়ন আমাদের টাকায় নয়, আপনাদের টাকায় করব। যে টাকা এতদিন বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আমরা দেশবাসীকে কথা দিচ্ছি, চাঁদাবাজ মুক্ত, দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলব। আপনারা বলুন, জুলাই আন্দোলনের পর কোথাও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি করতে গেছে, যায়নি। মামলা বানিজ্য করেছে, করেনি। আমাদের নেতাকর্মীরা এত নির্যাতিত হওয়ার পরও এসব করেনি, তারা এদেশকে ভালবাসে। দেশের মানুষের জন্য নিজেদের বিলিয়ে দেয়। আপনারা আমাদের সুযোগ দিলে মানবিকতার সাথে, সততার সাথে ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে চাই।
বক্তব্য শেষে আমিরে জামায়াত বগুড়ায় জামায়াত মনোনীত সকল সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন।
বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রিয় সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা কল্ হালিম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, জাগপা’র সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রিয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।
আরো বক্তব্য রাখেন বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শাহাবুদ্দিন, বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী দবিবুর রহমানর, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল, বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী গোলাম রব্বানী, বগুড়া অঞ্চলের টীম সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোজাহিদ ফয়সাল, এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় সহ-মূখ্য সমন্বয়ক সাকিব মাহদী, এলডিপি বগুড়া জেলা সভাপতি এড. মোকলেছুর রহমানর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা এহসানুল হক, এবি পার্টির সদস্য সচিব এস এ জাহিদ সরকার, খেলাফত মজলিমের জেলা সভাপতি রাশেদুল হাসান, বিডিপির জেলা সভাপতি মাহফুজুল হক, শহর জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আলমগীর হোসাইন, নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল হালিম বেগ, জেলা নায়েবে আমির আব্দুল বাসেত, নায়েবে আমির আব্দুল হাকিম সরকার, শহর শিবিরের সভাপতি হাবিবুল্লাহ খন্দকার, জেলা পশ্চিম শিবিরের সভাপতি সাইয়্যেদ কুতুব সাব্বির, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রিয় নেতা আব্দুল মতিরন, শহর সভাপতি আজগর আলী, শহর জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি রফিকুল আলম, এড. আল-আমিন, জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি মিজানুর রহমান, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম রাজু প্রমূখ।