চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির পথে অগ্রসর হলে কানাডার ওপর কঠোর বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক পর্যায়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী সব কানাডীয় পণ্যের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারিও দেন। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে উত্তর আমেরিকার বাণিজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
শনিবার (২৫ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক কড়া বার্তায় ট্রাম্প কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে সতর্ক করে বলেন, চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক কানাডার অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এমন উদ্যোগ কানাডাকে গুরুতর ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।
ট্রাম্প আরও স্পষ্ট করেন, কানাডা যদি চীনের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তিতে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী কানাডার সব পণ্য ও সামগ্রীর ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হবে। এই ঘোষণাকে বিশ্লেষকেরা নজিরবিহীন বাণিজ্যিক চাপ হিসেবে দেখছেন।
এ অবস্থায় সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করলেও এক ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি বলেন, বৈদেশিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের অর্থনীতি এখন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। অন্য দেশের সিদ্ধান্ত কানাডার নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও, নিজেদের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে নাগরিকদের দেশীয় পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, চলতি মাসেই মার্ক কার্নি চীন সফর করেন। সফরে কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। লক্ষণীয় যে, গত ১৬ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প তখন এই উদ্যোগকে ইতিবাচক বলেছিলেন। তবে কয়েক দিনের ব্যবধানে তাঁর অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেল।
এদিকে কানাডার পাবলিক সেফটি এবং কানাডা–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক দাবি করেছেন, চীনের সঙ্গে কোনো পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হচ্ছে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল কিছু নির্দিষ্ট শুল্কসংক্রান্ত জটিলতার সমাধান।
অন্যদিকে, কানাডায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে যে ঐকমত্য হয়েছে, তা বাস্তবায়নে তারা প্রস্তুত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থানের প্রকাশ্য সমালোচনা করেছিলেন মার্ক কার্নি। তাঁদের ধারণা, সেই রাজনৈতিক মতবিরোধ ও বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখার কৌশলের অংশ হিসেবেই কানাডার বিরুদ্ধে এমন কঠোর বাণিজ্যিক হুমকি সামনে এনেছেন ট্রাম্প।
সূত্র: রয়টার্স
মধুসূদন দত্তের জন্মবার্ষিকী আজ
ভবনের ছাদ থেকে পড়ে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু