শরীয়তপুরে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি কর্মীদের বাধা

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম

শরীয়তপুরের দুটি নির্বাচনী আসনের জামায়াত ইসলামীর কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। দুই প্রার্থীর পক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে।

নির্বাচনী আসন দুটি হলো শরীয়পুর-২ (নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জের সখিপুর থানা) ওই আসনের বিএনপির প্রার্থী সফিকুর রহমান ও জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মাহমুদ হোসেন। শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা, গোসাইরহাট ও ভেদরগঞ্জের আংশিক)। ওই আসনের বিএনপির প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ ও জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আজাহারুল ইসলাম।

নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পর ২২ জানুয়ারি হতে প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন এলাকায় প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন। শরীয়তপুর-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী মাহমুদ হোসেনের পক্ষে শনিবার সখিপুর থানার চরকুমারিয়া এলাকায় যান তার বোন মোর্শেদা হক। সেখানে সখিপুর থানা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সম্রাট মোল্যার নির্দেশে কয়েকজন বিএনপির কর্মী তাদের প্রচার-প্রচারণায় বাধা দেন। রবিবার মোর্শেদা হক এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

মোর্শেদা হক বলেন, আমি চরকুমারিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাহের চর মকবুল হোসেন মোল্যাকান্দি এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করি। এ সময়ে যুবদল নেতা সম্রাট মোল্যার নির্দেশে কয়েকজন ব্যক্তি আমাদের ওপর শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা চালায়। তারা আমাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং নির্বাচনী প্রচারণার সামগ্রী জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। আমাদের পথ একাধিকবার অবরুদ্ধ করে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি করতে থাকে।

এ বিষয়ে যুবদল নেতা সম্রাট মোল্যা বলেন, আমি কোনও ব্যক্তিকে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিইনি। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি যিনি অভিযোগ করেছেন তিনি গতকাল সেখানে যাননি। তারপরও কেন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন তা বুঝতে পারছি না।

এদিকে শুক্রবার শরীয়তপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে নারী কর্মীরা নির্বাচনী কার্যক্রম চালাতে ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি গ্রামে যান। সেখানে একটি বাড়িতে নিবার্চনী প্রচারণা চলাকালে স্থানীয় যুবদল নেতা কাদের মৃধা ও মনির মৃধার নেতৃত্বে বাধা দেন এবং মহিলাদের সঙ্গে অসদাচরণ করে এমন অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর সেখানে যান জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ আজহারুল ইসলাম। তখনই ঘটনাটি নিয়ে তাকে বিএনপি প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ ফোন করেন। ঘটনার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। আর নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে প্রচারণার কাজ চালানোর আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে জামায়াতের শরীয়তপুর-৩ নিবার্চনী এলাকার প্রার্থীর নিবার্চনী পরিচালনা কমিটির পরিচালক ও চিফ এজেন্ট মুহাম্মদ ইলিয়াছ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার ও মিডিয়া সেলের প্রধান শহীদুল ইসলাম বলেন, জামায়াতের নারীকর্মীরা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। তা নির্বাচন আচরণবিধি পরিপন্থী। তাই স্থানীয়রা এমন না করার জন্য বললে জামায়েতকর্মীরা বাকবিতণ্ডায় জড়ান। আমাদের প্রার্থী বিষয়টি শুনে জামায়াত প্রার্থীকে ফোন করেন। আর আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালানোর অনুরোধ করেন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন আইয়ূবী বলেন, ডামুড্যার ধানকাঠির ঘটনায় আমাকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছিল। বিষয়টি তাদের ভেতর মীমাংসা হয়েছে। পরবর্তীতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে এ জন্য সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুল হক বলেন, প্রচার-প্রচারণায় বাধা দেওয়ার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত