ভোলা-২ আসন

বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষের আহত ২৫, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সমর্থকদের সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। গতকাল রবিবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের বোরহানগঞ্জবাজার এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ করা হয়। রবিবার (২৫জানুয়ারী) রাত ১০টার দিকে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিএনপি অফিসে হামলা ও দলীয় নেতাকর্মীদেরকে মারধরের অভিযোগ করা হয়। অপরদিকে রাত ১২টার দিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলার পাল্টা অভিযোগ করেন জামায়াতে ইসলামী। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর ভোলা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা ফজলুল করিমের পক্ষে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা বোরহানগঞ্জ বাজারে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি বাজারে অবস্থিত বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরী হয়। পরে আধাঘন্টা ব্যাপী বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ ও নৌ বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। এ ঘটনায় দুই পক্ষের বেশ কয়েক জন আহত হয়েছে।

এ ঘটনার পর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে বিএনপি প্রার্থীর প্রাধান নির্বাচন সমন্বয়কারী মো. আকবর হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, মাগরিবের নামাজের পর পর পক্ষিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা হারুনের নেতৃত্বে একটি মিছিল নিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বোরহানগঞ্জ বাজারের অবস্থিত বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় তারা অফিসে থাকা শাকিল নামের এক কর্মীকে অফিস থেকে টেনে বের করে মারধর করেন। শকিলকে উদ্ধার করতে মো. জসিম মাতাব্বর, রাজু ও অন্তর এগিয়ে গেলে তাদেরকেও ব্যাপক মারধর করা হয়। 

এ ঘটনা শেষ না হতেই বোরহানউদ্দিন থেকে জামায়াতের আমির মাওলানা মাকসুদুর রহমানের নেতৃত্বে প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বোরহানগঞ্জ বাজারে গিয়ে আবারও হামলা চালানো হয়। এতে তাদের প্রায় ১৫জনের মতো আহত হয়েছেন। যারা এ হামলার নেতৃত্বে দিয়েছে তাদের মধ্যে অনেকে এমপিওভুক্ত স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষক রয়েছেন। জামায়াতের নেতাকর্মীরা নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে একটি দলের পক্ষ হয়ে কাজ করছেন। এ ঘটনায় আহত নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে আইনের আশ্রয় নিবেন।

অপরদিকে রাত ১২টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আমির মাওলানা মাকসুদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, রবিবার বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর জোটের শরিক এলডিপির প্রার্থী মোকফার উদ্দিন চৌধুরী জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন নিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এর পর থেকেই জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা প্রচারণা শুরু করেন। এরই অংশ হিসেবে মাগরিবের নামাজের পর স্থানীয় বোরহানগঞ্জ বাজারে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাঁড়িপাল্লার  একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিল নিয়ে বের হওয়ার পর স্থানীয় বিএনপির অফিস থেকে শাকিল হাওলাদার, জসিম মাতাব্বর, সুজন ঢ়ারী ও ইদ্রিস মিয়াসহ ৬০-৭০জন বিএনপির নেতাকর্মী তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা চালায়। এ সময় মিছিলে থাকা কয়েক জন নেতাকর্মী আহত হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয় থানা ও নৌ বাহিনীকে জানালে পুলিশ ও নৌ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে সকলকে সরিয়ে দেয়। 

এরপর জামায়াতের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার সময় পক্ষিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ওই ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি নুরুল ইসলাম আলমের ওপর সুজন ঢ়ারী নামের বিএনপির এক কর্মী অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। অপরদিকে বোরহানউদ্দিন পলিটেকনিকের সামনে সেখানকার ইমাম ও জামায়াত নেতা মাওলানা ওবায়দুল্লাহ মোটরসাইকেলে বাড়ি যাওয়ার সময় তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা ওবায়দুল্লাহর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করেন। পরে এদের দ্ইু জনকে উদ্ধার করে প্রথমে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরবর্তীতে তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একটি শন্তিপূর্ণ মিছিলে বিএনপির নেতাকর্মীরা সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে জামায়াতের নেতাকর্মীরাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন জামায়াতে ইসলামী। এ ঘটনায় দুইজন গুরুতরসহ আরো অন্তত ৮জন আহত হয়েছে। এ বিষয়ে তারা আইনের আশ্রয় নিবেন।

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপরদিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার মনোরঞ্জন বর্মন জানান, এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে দুই পক্ষ থেকেই মৌখিকভাবে তাকে জানিয়েছেন এবং লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত