নির্বাচনে কোনো অযোগ্য প্রার্থী অংশ নিয়ে নির্বাচিত হয়ে গেলেও পরে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কমিশনার রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী যদি কোনো প্রার্থী হলফনামা বা আয়-ব্যয়ের হিসাবপত্রে মিথ্যা তথ্য দেন, তাহলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি রহমানেল মাছউদ বলেন, অনেক বড় দলের চেয়ারম্যান, উনি অনেক দিন পর বিদেশ থেকে এসেছেন, উনি ওনার বাড়িতে যাবেন, এটা তার মৌলিক অধিকার, আমরা এটি বাধা দিতে পারি না, উনি কবর জিয়ারত করতে যাবেন, আমরা থামাতে পারি না। কিন্তু তারপরেও নির্বাচনের সমতা রক্ষার জন্য কমিশন থেকে অনুরোধ করা হয়েছে যে, আপনার এই প্রোগ্রামটা ২১ তারিখের পরে করেন। আমরা অত্যন্ত খুশি এটা আমাদের জন্য একটা ভালো বার্তা, রাজনৈতিক
সংস্কৃতিতে একটা পরিবর্তন আসছে যে, ওনারা সঙ্গে সঙ্গে মেনে নিয়েছেন। একইভাবে দেখবেন, আমরা তফসিলের আগে-পরে যত পোস্টার আছে, সব সরিয়ে ফেলতে বলেছি। জামায়াত পোস্টারগুলো সরিয়েও ফেলেছে। এই দুটোই আমাদের জন্য ভালো দিক। দুই দলকে আমাদের নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানাই।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, রাজনৈতিক দলগুলো সব দিক থেকেই আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা করছে এবং আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, একটি ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা সম্ভব হবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে রহমানেল মাছউদ বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ বেশ ভালো রয়েছে। আমরা খুবই আশাবাদী। এখন পর্যন্ত যে পরিবেশ আমরা লক্ষ করেছি, তাতে পরিস্থিতি বেশ ভালো বলেই মনে হচ্ছে। আমি ভোটারদের অনুরোধ করব, তারা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন এবং নাগরিক দায়িত্ব পালন করেন।
সরকারের কাছ থেকে অসহযোগিতা বা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে চাপের মুখে পড়তে হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, কমিশন কোনো মহল থেকেই কোনো ধরনের চাপের সম্মুখীন হয়নি। আমরা কোনো ধরনের চাপ পাইনি। সংবিধান প্রদত্ত দায়িত্ব পালনে আমরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছি। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
