পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

বিয়ে ও তালাকে হবে ডিজিটাল নিবন্ধন

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৩ এএম

বাংলাদেশে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালাইজেশনের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে। এ রায়ের ফলে এখন থেকে বিয়ে ও তালাকসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে থাকবে। গতকাল বুধবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে এই রায় হাতে পেয়েছেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর এ রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট।

২০২১ সালের ৪ মার্চ চার ভুক্তভোগীর পক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন এ আইনজীবী। এতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় কোনো ডিজিটাল ডাটাবেজ না থাকায় আগের বিবাহ বা তালাকের সঠিক তথ্য যাচাই করা প্রায় অসম্ভব। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই বিয়ে-তালাকসংক্রান্ত প্রতারণা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ২২ মার্চ হাইকোর্ট রুল দেয়। রুলে বিয়ে ও তালাকের তথ্য ডিজিটালভাবে নিবন্ধনের জন্য কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট কেন তৈরি করা হবে না, কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট তৈরিতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চায় হাইকোর্ট। এ রুল মঞ্জুর করে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।

অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, রায়ে আদালত বলেছেন, দেশে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ম্যানুয়াল পদ্ধতিনির্ভর হওয়ায় প্রতারণা, আগের বিয়ে গোপন, রেকর্ড হারানো ও বিকৃতি, অতিরিক্ত ফি আদায় এবং নারীদের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহে গুরুতর ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে, যা সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত মর্যাদাসহ জীবনযাপন, আইনের সমতা ও আইনি সুরক্ষার অধিকার ক্ষুণœ করছে। আদালত আরও বলে, ডিজিটাল নিবন্ধন কেবল প্রশাসনিক সুবিধা নয় বরং পারিবারিক নিরাপত্তা, নারীর অধিকার, শিশুদের বৈধতা এবং নাগরিক মর্যাদা রক্ষার অপরিহার্য উপাদান। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হাইকোর্ট নির্দেশনা দিয়ে বলে, ১. সারা দেশে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের জন্য একটি কেন্দ্রীয়, সার্চযোগ্য ও টেম্পার-প্রুফ ডিজিটাল সিস্টেম চালু করতে ২. সব নাগরিকের বিশেষ করে নারীদের জন্য সহজ, স্বল্পব্যয়ী ও ন্যায্যভাবে ডিজিটাল সার্টিফায়েড কপি প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ৩. আগামী ৩ মাসের মধ্যে অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনাসংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত