ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ও সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনসহ ২৬ নেতাকর্মীকে উপজেলা বিএনপির দলীয় পদসহ প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গত ৩০ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্রী প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে ২১ জানুয়ারি সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম, ২৮ জানুয়ারি সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শহীদুর রহমান স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামাল হোসেন, নোয়াগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান আপেল, বারদী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন দুলুকে বহিষ্কার করে দল। বৃহস্পতিবার সোনারগাঁ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ২০ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করে।
বৃহস্পতিবার বহিষ্কৃত নেতারা হলেন- সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বজলুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাদ্দাম হোসেন ও জিয়াউল ইসলাম চয়ন, সদস্য খন্দকার আবু জাফর, সোনারগাঁ পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি পনির হোসেন এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির রফিক। এ ছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি জিএম সাদরিল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হোসেন, যুগ্ম-সম্পাদক কামরুজ্জামান শরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আকবর, থানা বিএনপির সদস্য শামিম আহম্মেদ ঢালি, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুন্সি আলী আইয়ুব, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ করিম, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ভূইয়া, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আলী, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাসুদুজ্জামান মন্টু, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, ১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল প্রধান, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামান মির্জাকে বহিষ্কার করা হয়।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত ৪টি পৃথক প্যাডে তাদের বহিষ্কার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।
বহিষ্কৃত নেতা সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার আবু জাফর বলেন, নির্বাচনে অযোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার কারণে আমি যোগ্য প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। বহিষ্কার করায় আমি বিচলিত না।
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শহীদুর রহমান স্বপন বলেন, আমাকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমি দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি, এমন কোনও প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। আমি দলের দুঃসময়ে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ৫৩টি মামলার আসামি হয়েছি। ৭ বার জেল খেটেছি। ৩ বার রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় দুই উপজেলার এসব নেতাকর্মীদের জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
