বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ইউরোপিয়ানদের

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৬ এএম

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় সমর্থক সংগঠন ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’ (এফএসই)। সংগঠনটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের ক্রমবর্ধমান সামরিকীকরণ এবং অভিবাসনবিরোধী অভিযান বিশ্বকাপে আগত দর্শকদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

গত এক মাসে মিনিয়াপোলিসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন দমন অভিযানের সময় ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। এ ছাড়া বিশ্বকাপ ভেন্যুতে অবৈধ অভিবাসীদের লক্ষ্য করে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) অভিযান চালানো হতে পারে—এ সম্ভাবনাও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি নাকচ করেনি।

এফএসই-এর নির্বাহী পরিচালক রোনান ইভান বলেন, “ভ্রমণকারী সমর্থকদের কাছে এখনো পরিষ্কার নয়—ফিফার ভেন্যুতে কী অনুমোদিত হবে, কী হবে না, কিংবা দেশের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের আচরণ কেমন হতে পারে। আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য ফিফার পক্ষ থেকে স্পষ্ট নিরাপত্তা নীতিমালার অভাব আমাদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে।”

সংগঠনটি দাবি করেছে, এখনো বিদেশি পুলিশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, যা আধুনিক বিশ্বকাপ ইতিহাসে নজিরবিহীন। ফিফা জানিয়েছে, দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংস্থাটি বলেছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়, অংশগ্রহণকারী দেশ ও আয়োজক শহরগুলোর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক পুলিশ সমন্বয় কেন্দ্রে যুক্ত করা হবে, যাতে নিরাপত্তা বিষয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা নিশ্চিত করা যায়। ফিফা আরও জানায়, স্টেডিয়ামে কী অনুমোদিত হবে তা নিয়ে আচরণবিধি (কোড অব কন্ডাক্ট) অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে এবং সমর্থক সংগঠনগুলোর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে।

অবৈধ অভিবাসন দমনে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতির ফলে গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় শহরে ফেডারেল এজেন্ট ও ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে পোর্টল্যান্ড, লস অ্যাঞ্জেলেস ও শিকাগোর মতো শহরে বিক্ষোভ ও আইনি চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। ইউরোপীয় ডেমোক্রেটিক পার্টি (ইডিপি) সতর্ক করেছে, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা না মিললে কিছু দেশ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। দলটি ভিসা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করেছে।

বিশ্বকাপ প্রস্তুতির দায়িত্বে থাকা বিশেষ টাস্কফোর্স দাবি করেছে, ২০২৬ বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে নিরাপদ ও অতিথিপরায়ণ ক্রীড়া আয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানিয়েছে, ফিফা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তবে সমর্থক সংগঠনগুলোর মতে, বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে স্পষ্ট নীতিমালা ও স্বচ্ছতা না থাকলে বিশ্বকাপ ঘিরে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত