জাতি কঠিন বাঁকে দাঁড়িয়ে আছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাঁক পরিবর্তনের দিন। এ কথা বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শেরপুরে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তৃতার শুরুতেই তিনি একটি বিশেষ বিষয়ে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, যা উপস্থিত জনতাকে আবেগাপ্লুত করে।
বক্তৃতার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল ক্ষমা ও মহানুভবতার বার্তা। ডা. শফিকুর রহমান তার ব্যক্তিগত এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার পর সেখান থেকে নারীদের প্রতি অবমাননাকর পোস্টের প্রসঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, সামান্য সময়ের জন্য আমার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টটি দুর্বৃত্তদের কবলে ছিল এবং সেখান থেকে মা-বোনদের নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ কিছু বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। যদিও আমরা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছি, তবুও ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় যদি দেশের কোনো মা বা বোন তিল পরিমাণ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে আমি তাদের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইছি। তিনি আরও যোগ করেন, যারা এ ধরনের নোংরা পথে রাজনীতি করতে চায়, তারা মূলত নারী জাতি তথা মানবতার শত্রু।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে জামায়াত আমির বলেন, জাতি আজ এক কঠিন বাঁকে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন। ১২ তারিখ আপনারা দুটি ভোট দেবেন। একটি হলো—নতুন বাংলাদেশের সংস্কারের পক্ষে হ্যাঁ ভোট, যা আমাদের আজাদির প্রতীক। আর দ্বিতীয়টি হলো—ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট। তিনি এই দিনটিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে অভিহিত করেন।
সম্প্রতি শ্রীমতী উপজেলায় জামায়াত নেতা অধ্যাপক মাওলানা রেজাউল করিমের নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং নির্বাচনী সভায় হামলার তীব্র নিন্দা জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, তিন দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে সরাসরি বলেছি, ফোনের আশ্বাস নয়, আমি দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চাই। যারা খুন করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনুন। আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না।
শেরপুরের উন্নয়নে তিনি একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দেন:
- শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: শেরপুরে একটি বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন।
অর্থনীতি ও কৃষি: কৃষিপণ্যের সঠিক দাম নিশ্চিত করতে শেরপুরে 'ভেজিটেবল ইপিজেড' এবং আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ। - যোগাযোগ: সারা বাংলাদেশকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় এনে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাতায়াত নিশ্চিত করা।
- কর্মসংস্থান: বেকার ভাতা নয়, বরং ১ কোটি যুবকের হাতে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও মর্যাদাপূর্ণ কাজ তুলে দেওয়া।
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীদের ঘরে বন্দি করা হবে—এমন প্রচারণাকে অপপ্রচার হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, নবীজি (সা.) নারীদের যুদ্ধের ময়দানেও নিয়ে গেছেন। আমরা নারীর জন্য ঘর, কর্মস্থল এবং চলাচলের পথ—এই তিন জায়গায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করব। যোগ্য নারী তার প্রাপ্য অধিকার পাবেন, এখানে ধর্মের কোনো ভেদাভেদ থাকবে না।
বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে তিনি নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, আমরা কারো ওপর প্রতিশোধ নেব না। তবে কেউ যদি ভোট নিয়ে সন্ত্রাস করতে চায়, তবে প্রশাসনকে জানিয়ে সমানুপাতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা আপনাদের ঈমানি দায়িত্ব। ইনশাআল্লাহ, ১২ তারিখের সূর্যালোক হবে নতুন ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশের।
মেয়ের বিয়ের খবর জানালেন শাবনাজ–নাইম
গণভোটের প্রচারে মানিকগঞ্জে ইমাম সম্মেলন
ইরানে ইউরোপীয় সেনাবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ ঘোষণা