হারিয়ে যেতে বসেছে ফুটবল জাদুকর এম এ সামাদের স্মৃতি চিহ্ন। ইতিমধ্যেই দখল হয়ে গেছে সামাদের স্মৃতিবিজড়িত বসতবাড়ি। ভেঙে পড়তে শুরু করেছে সেই সামাদ মিলনায়তন। উনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনকারী এই ফুটবলার ১৯৬৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পার্বতীপুরে মারা যান। তার ৬২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার। ফুটবল খেলার অপূর্ব দক্ষতা এবং উন্নত মানের ক্রীড়া কৌশল প্রদর্শনের জন্যই সামাদ পেয়েছেন জাদুকর ফুটবলার উপাধি। ১৯১৫ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত ২৩ বছর ছিল সামাদের খেলোয়াড়ি জীবন। তিনি ছিলেন একজন রেল কর্মচারী। সে সময় ইবিআর নামে যে রেলওয়ের ফুটবল দল ছিল, সামাদ সেই দলে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। সামাদের ২৩ বছর খেলোয়াড়ি জীবনে এমন সব বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে যা খেলার জগতে আজও দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
জানা যায়, কোনো এক মাঠে একবার খেলা শুরুর আগ মুহূর্তে মাঠে চারদিকে পায়চারি করে এসে সামাদ ক্রীড়া কমিটির কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে, এ মাঠ আন্তর্জাতিক মাঠ অনুযায়ী ছোট বিধায় তার দল এ মাঠে খেলতে পারেন না। সঙ্গে সঙ্গে মাঠ কমিটি তার অভিযোগ আমলে নিয়ে মাঠ মাপজোক করলে তার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছিল। একবার মাঠের মধ্যস্থল থেকে সামাদ কয়েকজন খেলোয়াড়কে বোকা বানিয়ে বল ড্রিবলিং করে গোলপোস্টে পাঠান। কিন্তু বল গোলে প্রবেশ না করে গোলবারে লেগে ফিরে আসে। তখন সামাদ চ্যালেঞ্চ করে বসেন গোলপোস্ট ছোট আছে। কমিটি উচ্চতা মেপে তার অভিযোগের সত্যতা পায়। তার খেলোয়াড়ি জীবনে এমন অনেক বিস্ময়কর ঘটনা এখনো মানুষের মুখে মুখে।
ভারতের পশ্চিম বাংলায় পূর্ণিয়া জেলার বিহারে ১৮৯৫ সালে সামাদের জন্ম হয়। তার পুরো নাম সৈয়দ আব্দুস সামাদ। পার্বতীপুরের কালিবাড়ী ইসলামপুর কবরস্থানে শায়িত আছেন ফুটবলের এই মহাপুরুষ। তার নামে পার্বতীপুরে একটি মিলনায়তন আছে, যার নাম ফুটবল জাদুকর সামাদ মিলনায়তন। সামাদের মৃত্যুর ২৫ বছর পর ১৯৮৯ সালে ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে তার সমাধিস্থল নির্মাণ করে সরকার। এরপর আরও ২৭ বছর অতিক্রম হলেও সরকারি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় নষ্ট হতে বসেছে তার স্মৃতিসৌধ, মিলনায়তন। দখল হয়ে গেছে তার স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি।
