হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের করড়া গ্রামের চৌধুরীপাড়ায় চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় শামীম চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এতে অন্তত ৪০ পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগই স্থানীয় বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানায় কর্মরত। রাস্তা বন্ধ থাকায় তাদের দৈনন্দিন কর্মস্থলে যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি এর আগেও অন্তত পাঁচবার একইভাবে রাস্তা বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছেন।
ভুক্তভোগী সেলিম মিয়া চৌধুরী বলেন, আমরা আদালতে ১৪৭ ধারায় মামলা করেছি। শামীম পুলিশকে ম্যানেজ করে রাস্তার ব্যারিকেড সরাচ্ছে না। সে আমার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।
মাধবপুর থানার উপপরিদর্শক ও নোয়াপাড়া ইউনিয়ন বিট অফিসার পাভেল আহমেদ জানান, বিধি মোতাবেক উভয়পক্ষকেই স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নোটিশ করা হয়েছে। বিবাদ নিস্পত্তির এখতিয়ার বিজ্ঞ আদালতের।
স্থানীয় গার্মেন্টস কর্মী সালমা বেগম বলেন, রাস্তা বন্ধ থাকায় আমাদের কাজে যাওয়া খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সময়মতো অফিসে পৌঁছাতে পারছি না। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চাই।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শামীম মিয়া চৌধুরী বলেন, এটি আমার নিজস্ব জমি। চলাচলের জন্য একটি ছোট পথ রাখা হয়েছে। এতে বড় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। চলমান মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সুস্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য খসরু মিয়া বলেন, তিনি আমাদের সালিশ মানছেন না। অন্যায়ভাবে রাস্তা বন্ধ করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুজিবুল ইসলাম বলেন, পথ বা রাস্তা বন্ধ করার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। অভিযোগ সাপেক্ষে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
