জাপানে রবিবার (৮ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য আকস্মিক নির্বাচনের আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তাকাইচিকে একজন শক্তিশালী ও যোগ্য নেতা হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তিনি 'নিজের দেশকে সত্যিকার অর্থেই ভালোবাসেন।'
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তাকাইচি জাপানের জনগণকে হতাশ করবেন না। তিনি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক খাতে যুক্তরাষ্ট্র–জাপান সহযোগিতার অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন এবং আগামী ১৯ মার্চ তাকাইচিকে হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানানোর পরিকল্পনার কথা জানান।
বিদেশি নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের প্রকাশ্য সমর্থন বিরল হলেও ট্রাম্প এর আগেও এমনটি করেছেন। সম্প্রতি তিনি আর্জেন্টিনার হাভিয়ের মিলে এবং হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। ট্রাম্পের এই সমর্থন এমন এক সময়ে এলো, যখন সাম্প্রতিক বাণিজ্য উত্তেজনার পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে চাইছে টোকিও। জুলাইয়ে দুই দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছায়, যার আওতায় জাপান যুক্তরাষ্ট্রে ৫৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে সম্মত হয়। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনে।
৬৪ বছর বয়সী তাকাইচি গত অক্টোবরে নিজ দলের নেতৃত্ব নির্বাচনে জয়ী হয়ে এবং পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর তিনি জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট পেতে আগাম নির্বাচনের ডাক দেন।
প্রতিরক্ষা ইস্যুতে ট্রাম্প ও তাকাইচির অবস্থানও অনেকটাই এক। দুজনই জাপানের সামরিক ব্যয় বাড়ানোর পক্ষে। সাম্প্রতিক এক বৈঠকে টোকিওতে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা এবং মার্কিন সেনাদের সঙ্গে যৌথ উপস্থিতির মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার দৃশ্যমান বার্তা দেওয়া হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সমর্থন শুধু জাপানের ভোটারদের জন্য নয়, বরং গোটা অঞ্চলের প্রতিও একটি বার্তা—বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপান ও চীনের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। জরিপগুলোতে তাকাইচির বড় ধরনের জয় সম্ভাব্য হলেও, জাপানের স্থবির অর্থনীতি সামাল দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
