খুলনায় নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বেপরোয়া সন্ত্রাসীরা

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম

এক মাসের একটু বেশি সময় শান্ত থাকার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে খুলনায় আবারও সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল শনিবার রাতে নগরীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের সামনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে সৈয়দ আলম নবী নামে এক বালু ব্যবসায়ী আহত হয়। গুলিবিদ্ধ সৈয়দ আলম নবী মিরেরডাঙ্গা এলাকার আনোয়ার মীরের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, সৈয়দ আলম নবী নগরীর মিরেরডাঙ্গা এলাকার একজন বালু ব্যবসায়ী ও অ্যাজাক্স জুট মিলের সিকিউরিটি ইনচার্জ। শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তিনি ব্যবসায়িক কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবক তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যান। এতে গুলি তার পিঠ, কাঁধ ও কানে বিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম জানান, সৈয়দ আলম নবীর বিরুদ্ধে থানায় মারামারিসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে। তদন্তে কয়েকটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরীর রেলওয়ে হাসপাতাল রোড মার্কেট এলাকায় বাবুল মোল্লা (৭৫) নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। নিহত বাবুল মোল্লা ওই এলাকার মৃত লালচান মোল্লার ছেলে। তিনি হাসপাতাল রোডের মাটিপট্টি বস্তিতে ভাড়া থাকতেন।

পুলিশ জানায়, ঐ দিন বিকালে পানি ছিটানো নিয়ে বস্তির আরেকটি পরিবারের সঙ্গে বাবুল মোল্লার পরিবারের ছোটদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে সেটা বড়দের মাঝে ঝগড়ায় রূপ নেয়। এর জের ধরে রাতে প্রতিবেশীরা ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে বাবুল মোল্লাকে মারপিট করে আহত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগের দিন ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরীর পশ্চিম টুটপাড়া এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে রাকিব হোসেন (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ তিনটি মামলা রয়েছে। নিহত যুবক লবণচরা থানার আশিবিঘা এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রাকিব রাত ১০টার দিকে একটি সেলুনে বসেছিলেন। এ সময় দুইজন যুবক হঠাৎ করে এসে তাকে সেলুন থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে মাথায় দুইটি গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এদিকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিকালে চাঁদার দাবিতে নগরীর শেখপাড়া লোহাপট্টির একটি দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। পরদিন সকালে সেই তালা ভেঙে দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে ৯ লাখ টাকা লুট করা হয়। লুটের খবর পুলিশকে জানানোয় ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা নগরীর নবীনগর এলাকায় অবস্থিত ঐ ব্যবসায়ীর বাড়িতে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেখপাড়ার কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, গত সপ্তাহে বাজারের ব্যবসায়ী মো. সাজ্জাদের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপ। চাঁদার অঙ্ক কমানো নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে দেন দরবার চলছিল। বৃহস্পতিবার মধ্যে টাকা পরিশোধ না করায় বিকালে সাজ্জাদের দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেয় ঐ সন্ত্রাসীরা।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টার দিকে নগরীর বড় মির্জাপুর ক্রস রোডে চালকবেশী এক দুর্বৃত্ত রিকশাচালক রনির মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে রিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়। আহত রিকশাচালক রনিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেএমপি এক কর্মকর্তা বলেন, খুলনায় এখনো নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেনি। যে দু-একটি ঘটনা ঘটেছে তা মাদকসহ সন্ত্রাসীদের মধ্যে কোন্দলকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের  (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মাদ জাহিদুল হাসান বলেন, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে– এমন বলার সুযোগ নেই। প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুত তারা গ্রেপ্তার হবে। নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত