বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী সমুদ্রের নোনা জলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে চলেছে বহুবছর ধরে। এই নোনা জলের কারণে তাদের তৈরি যেকোন ধরনের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় কয়েক বছরের মধ্যেই। এর মূল কারণ মাটির নিচে পানিতে লবণাক্ততা ও সালফেটের উপস্থিতি। এই অঞ্চলের মানুষেরা এই দুর্দশাকে সঙ্গী করে নিয়েই পথ চলছেন। সেই দুর্দশার পথ শেষ হতে চলেছে। দেশের নেতৃস্থানীয় নির্মাণ সামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসি ‘হোলসিম কোস্টাল গার্ড’ নামে একধরনের বিশেষায়িত সিমেন্ট বাজারে এনেছে, যা এই লবণাক্ততা ও সালফেটকে প্রতিরোধ করবে এবং যে কোন অবকাঠামোকে করবে টেকসই। সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে পুরো উপকূলের অবকাঠামোর চেহারা পরিবর্তন হবে।
লবণাক্ততা ও সালফেট প্রতিরোধী ‘হোলসিম কোস্টাল গার্ড’ সিমেন্ট হোলসিম গ্রুপের ফ্রান্সের লিওনে অবস্থিত ইনোভেশন সেন্টারের সহযোগিতায় এবং স্মার্ট ব্রেন্ড টেকনোলজি ব্যবহার করে কোম্পানির নিজস্ব উদ্ভাবন ও উৎপাদন সক্ষমতার মাধ্যম উৎপাদন করা হয়েছে। বিশেষায়িত এই সিমেন্ট উপকূলীয় পরিবেশের সালফেট ও ক্লোরাইড সমৃদ্ধ মাটি, ভূগর্ভস্থ ও সমুদ্রের পানি এবং পানি/বর্জ্য শোধণাগারের রাসায়নিক আক্রমণ থেকে কাঠামোর দ্রুত ক্ষয়রোধ করে স্থাপনাকে দীর্ঘস্থায়ী এবং অধিক টেকসই করবে।
লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের কমার্শিয়াল ও লজিস্টিকস ডিরেক্টর মোহম্মদ মাহফুজুল হক সম্প্রতি খুলনার একটি হোটেলে নতুন এই সিমেন্টের মোড়ক উন্মোচন করেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. রাকিব আহসান।
অনুষ্ঠানে মাহফুজুল হক বলেন, “হোলসিম কোস্টাল গার্ড আমাদের সেরা উদ্ভাবনগুলোর একটি। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনে এই সিমেন্ট দারুণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে চলেছে। গ্রাহকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, গবেষণা এবং অবকাঠামো নির্মাণে অতিরিক্ত লবন ও সালফেটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিস্তর পরীক্ষা-নীরীক্ষার মাধ্যমে এই সিমেন্ট উদ্ভাবন করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই সিমেন্ট ব্যবহার করে এই অঞ্চলের মানুষেরা তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন এবং তাদের নির্মাণ হবে টেকসই।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা অঞ্চলের বাবুল এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী বিপ্লব সাধু। তিনি নিজে ২০ বছর ধরে নির্মাণ সামগ্রী বিক্রয় ব্যবসার সাথে জড়িত। তিনি বলেন, “আমি গত দুই দশকে এমন অনেক গ্রাহক দেখেছি যাদের নির্মিত বাড়ি কয়েক বছরের মধ্যেই নোনায় ধরে বসবাসের অযোগ্য হয়ে গেছে। গ্রাহকরা আমার কাছে সমাধান চাইলেও আমি তাদের কোন কার্যকরী সমাধান দিতে পারিনি। কিন্তু এখন আমার কাছে সমাধান আছে। আমি আমার গ্রাহকদের এখন হোলসিম কোস্টাল গার্ড ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারবো। আমার মনে হয় এর মাধ্যমে শুধু দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানই হবে না বরং এই অঞ্চলের মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল টেকনিক্যাল সেমিনার, যেখানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. রাকিব আহসান। মূল প্রবন্ধে উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই নির্মাণে বিশেষায়িত সিমেন্টের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের হেড অব ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনিক্যাল সার্ভিসেস ফখরুদ্দীন মো. খান হোলসিম কোস্টাল গার্ডের বিশেষত্ব এবং লবণাক্ততা ও সালফেট প্রতিরোধে এই সিমেন্টের কার্যকরীতা তুলে ধরেন। সেমিনার আলোচনায় আরও অংশ নেন কুয়েটের, বিইসিএম ডিপার্টমেন্টের হেড ড. মো. হাবিবুর রহমান সবুজ এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আর্কিটেক্ট এস এম নাজিমুদ্দীন পায়েল। অনুষ্ঠানটি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার মোহাম্মদ কলির ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে শেষ হয়।
অনুষ্ঠানে ১৬০ জনের বেশি প্রকৌশলী, আর্কিটেক্ট, শিক্ষাবিদ ও নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশাদার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
যে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন শুধুই নারীরা
কুমিল্লায় ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও জিআই পাইপ উদ্ধার