জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ করতে গাজীপুরে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে পুলিশ, সেনাবাহিনী, আনসার, বিজিবিসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর সাড়ে ১৮ হাজার ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় ও বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রগুলোয় ব্যালট পেপার ও নির্বাচনীসামগ্রী পৌঁছানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দলে দলে উপস্থিত হয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এসব তথ্য জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেন।
তিনি বলেন, গাজীপুরে পোস্টাল ভোটের ৫টি কেন্দ্রসহ মোট ৯৪০টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পোস্টাল ভোটকেন্দ্র ছাড়া ৯৩৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৪৪টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৩৯১টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সব কেন্দ্র সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্তসংখ্যক আনসার-পুলিশ মোতায়েন থাকবে। আর বাইরে পুলিশের মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে, র্যাবের ট্রাইিকিং ফোর্স এবং সেনাবাহিনীর স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। ভোটাররা যেন নির্বিঘেœ তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে তার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলার ৪ হাজার ৬৪৬ জন পুলিশ, ১ হাজার ২০০ -এর মতো সেনাবাহিনীর সদস্য, ৩০০ বিজিবি ও র্যাব সদস্যসহ প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার ফোর্স নির্বাচনী দায়িত্বে আছে। আনসারদের সঙ্গে সুরক্ষা অ্যাপ ছাড়াও পুলিশের সঙ্গে বডিওর্ন ক্যামেরা থাকবে। কেন্দ্রের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে প্রতিটি কেন্দ্র সিসিটিভির ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ক্যামেরার মাধ্যমে জেলাপর্যায়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় এবং উপজেলায় কার্যালয়ে থেকে প্রতিটি কেন্দ্র পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং করা হবে। এ ছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তার মিলনায়তনে ও প্রতিটি উপজেলা কার্যালয় মিলনায়তনে সমন্বয় সেল স্থাপন করা হয়েছে। গাজীপুরের নির্বাচনে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৩৮জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১৩জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ৫টি জুডিসিয়াল ইনকোয়ারি টিমও প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় কাজ করছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে ৫ টি সংসদীয় আসনে মোট ৪২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে মোট ভোটার ২৭ লাখ ৩৮ হাজার ২৪৯ জন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৪৪০টি। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কাজ করবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
