খুলনার গ্রামাঞ্চলে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নিয়ে বিভ্রান্তি

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৯ এএম

দুই-একটি ছোটখাটো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া খুলনা মহানগরীসহ জেলার ছয়টি আসনে উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটগ্রহণ শুরুর অনেক আগেই কেন্দ্রগুলোয় ভিড় করতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে। ভোটারদের মধ্যে তরুণ, নারী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো। তবে গ্রামাঞ্চলের অনেক ভোটার ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। এ ছাড়া অধিকাংশ কেন্দ্রে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর এজেন্ট ছাড়া অন্য কোনো প্রতীকের এজেন্ট দেখা যায়নি।

অন্যদিকে, খুলনা-৬ আসনের কয়রা উপজেলায় ভুয়া এজেন্ট সেজে দায়িত্ব পালনের অভিযোগে ১১ জনকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

খুলনা-২ আসনের ভোটার জুবায়ের সকাল ৮টার দিকে খুলনা সরকারি সিটি কলেজ কেন্দ্রে এবারই প্রথম ভোট দেন। জীবনের প্রথম ভোট দিতে পেরে তিনি দারুণ খুশি।

খুলনা-৩ আসনের ভোটার বীথি আক্তারও জীবনের প্রথম ভোট দিয়ে উচ্ছ্বসিত। খুলনার মিস্ত্রিপাড়ার বাসিন্দা সোহরাব আলী বলেন, বিগত সরকারের আমলে তিনি ভোট দিতে পারেননি। সকাল পৌনে ৮টায় ভোট দিয়ে এসে তিনি বলেন, খুব সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। নিশ্চয়ই একটা ভালো ফল পাওয়া যাবে।

খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) আসনের ঘোনা রামকৃষ্ণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার গৃহবধূ বিশাখা দাস (৪০) বলেন, সুন্দর পরিবেশে ভোট দিয়েছি। কোনো ভয়ভীতি ছিল না। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।

জনতা ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার দীপঙ্কর ম-ল ভোট দিয়ে এসে বলেন, খুবই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। নারী, পুরুষ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের উপস্থিতি অনেক ভালো বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঘোনা রামকৃষ্ণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার অপূর্ব কুমার দাস বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি অনেক ভালো ছিল। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নতুন ভোটারসহ সব ভোটার উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন। ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের বামনদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ষাটোর্ধ্ব ভোটার সুস্মিতা দেবনাথ বলেন, ‘এতদিন একখানা কাগজে (ব্যালট পেপার) ভোট দিয়েছি। এবার দুইখানা কাগজ দিয়েছে।’

নতুন গোলাপি কাগজে না বুঝে ছাপ মেরেছি। জানি না ভোট হয়েছে কি না। গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা-২, খুলনা-৩ ও খুলনা-৫ আসনের অনেক কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী থাকলেও স্বতন্ত্র এবং অন্য দলের কোনো এজেন্ট দেখা যায়নি। তবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর এজেন্টরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে, গতকাল দুপুর ২টার দিকে জাতীয় পার্টির (জাপা) এজেন্ট পরিচয়ে ভুয়া এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিযোগে খুলনা-৬ আসনের কয়রা উপজেলার কয়েকটি কেন্দ্রে ১১ জনকে ২ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ প্রসঙ্গে কয়রা থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভুয়া এজেন্ট হিসেবে ১১ জন দায়িত্ব পালন করছিল। বিষয়টি জানতে পেরে প্রিসাইডিং অফিসার ম্যাজিস্ট্রেটকে খবর দেন। ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বসিয়ে ভুয়া শনাক্ত হওয়ায় তাদের প্রত্যেককে দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত