অবহেলিত মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীরা ‘মন্ত্রিত্ব’ চান

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

দেশের ১৮ কোটি মানুষেন মধ্যে প্রায় ১ কোটি প্রবাসী রয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংখ্যার হিসাব করলে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় সাড়ে ৫ দশমিত ৫ শতাংশ। এর সঙ্গে প্রবাসীদের পরিবারসহ হিসাব করলে  ভোটার রয়েছে প্রায় ২৫ পার্সেন্ট। ৩০০ আসনের পার্লামেন্ট সিটে আনুপাতিক হারে প্রায় ২০ আসনের জনসংখ্যার সমতুল্য।

তবে দুঃখজনক হলেও সত্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের দেশের অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান বিবেচনায় সকলের প্রত্যাশা ছিল অন্তত এক দুইজন অত্র অঞ্চল থেকে দলীয় মনোনয়োন পেয়ে সংসদে কথা বলার সুযোগ পাবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে। বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, মধ্যপ্রাচ্য বিএনপির সাংগঠনিক সমন্বয়ক ও সৌদিআরব বিএনপির আহ্বায়ক আহমেদ আলী মুকিব ও সৌদি আরব বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান নিয়ে এই আশার বীজ বুনেন মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীরা।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে অবহেলিত প্রবাসীদের পক্ষ থেকে সৌদি আরব পশ্চিমাঞ্চল বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদস্য সচিব নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সৌদি আরবের প্রকৌশলী নুরুল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,  প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের পোস্টাল ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও মধ্যপ্রাচ্য থেকেই সর্বাধিক ভোট  পড়েছে। যাহা ছিল খুবই কষ্টসাধ্য ,ঝুঁকিপূর্ণ সঙ্গে নানাবিধ প্রশাসনিক জটিলতা।

তিনি বলেন, যতটুকু জানা গেসে প্রবাসী পোস্টাল ভোট সংখ্যায় কম হলেও সাংসদ নির্বাচনে উল্লখ্যোগ্য ভূমিকা রেখেছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। প্রচলিত নিয়মে অতিদ্রুততম সময়ে মন্ত্রী পরিষদও গঠিত হবে।

তিনি দাবি করেন, প্রবাসীদের দেশ প্রেম, দেশের প্রতি অবদান, দলের প্রতি আনুগত্য ,বৈরী পরিবেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া, দলের সকল আন্দোলন সংগ্রামে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে অংশ নেওয়াসহ এসব শ্রমজীবী মানুষগুলোর আবেগ অনুভুতি বিশেষ বিবেচনায় অন্তত একজন মন্ত্রী সভার বিশেষ কোটায় অন্তর্ভূক্ত করার দাবি জানান এই প্রবাসী বিএনপি নেতা। 

এছাড়া যারা পুরো মধ্যপ্রচ্যের শ্রমিক-শ্রমজীবী মানুষদের জীবন প্রবাহ,সুখ-দুঃখ, চাওয়া-পাওয়া সম্পর্কে সম্যক ধারণা আছে তাদেরকে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। তবে তিনি বিশেষ করে দীর্ঘদিনের সৌদি প্রবাসী ও সৌদিআরব বিএনপির আহ্বায়ক হবিগঞ্জের সন্তান আহমেদ আলী মুকিব বিবেচনায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।

দেশ থেকে অর্থ নিয়ে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন ইউরোপ আমেরিকার প্রবাসীরা এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী আয়ের শতভাগ দেশের উন্নয়ন সহযোগী হলেও জাতীয় রাজনীতি ও সরকার গঠনে তাদের ভূমিকা খুবই নগণ্য। রাষ্ট্রের যখন অর্থের সংকট হয় তখন পাশে দাঁড়ায় ৫০ ডিগ্রি রোদে খেটে খাওয়া মধ্যপ্রাচ্য এসব প্রবাসীরা।

সব শেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো যখন ক্ষমতাসীনদের দ্বারা অত্যাচারিত নিপীড়িত হয়ে যখন বিপদে পড়েন তখন মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীর আশ্রয় দিয়ে থাকেন। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ খরচ করেন দেশ থেকে পালিয়ে আসা নেতাকর্মীদের পেছনে। অথচ সুসময়ে খেটে খাওয়া দিনমজুর মধ্যপ্রাচ্যের এসব প্রবাসীদের খবর না রাখে রাষ্ট্র, না রাখে রাজনৈতিক দলগুলো। অথচ এই প্রবাসীরাই নিজের পরিবার পরিজন ছেড়ে বিদেশে এসে দেশ মাতৃকার জন্য যৌবনের মূল্যবান সময়টিকে উৎসর্গ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত