ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলার মাত্রা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘এন১২ নিউজ’ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আইডিএফ হিজবুল্লাহর সদস্য, রকেট লঞ্চার এবং অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালাচ্ছে। মূলত ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হলে হিজবুল্লাহ যাতে তেহরানকে কোনোভাবে সহায়তা করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই ‘ক্রিপলিং স্ট্রাইক’ বা পঙ্গু করে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘মাআরিভ’-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত লেবাননে হিজবুল্লাহ এবং ইসলামি জিহাদের অন্তত ১২ জন সদস্য আইডিএফ’র হামলায় নিহত হয়েছে।
আইডিএফ জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে তাদের ৯১তম ডিভিশন লেবাননে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে নিয়োজিত চার সদস্যকে নির্মূল করেছে। সর্বশেষ হামলাটি চালানো হয়েছে দক্ষিণ লেবাননের ‘তালুসাহ’ এলাকায়। নিহত ওই হিজবুল্লাহ সদস্য সামরিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে সংগঠনের সংযোগ রক্ষা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যক্তিগত সম্পত্তি দখলের দায়িত্বে ছিলেন। আইডিএফ জানিয়েছে, সোমবার মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে তারা লেবাননে দুই হিজবুল্লাহ সদস্যকে হত্যা করেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পরদিন থেকেই হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে আক্রমণ শুরু করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ সামরিক অভিযানের পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ওই অভিযানে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
তবে ইসরায়েলের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও হিজবুল্লাহ নানাভাবে শর্ত লঙ্ঘন করে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। গত বছরের নভেম্বরে আইডিএফ জানিয়েছিল যে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর তারা হিজবুল্লাহর ৩৭০ জনেরও বেশি যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। এছাড়া গত ডিসেম্বরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করে, হিজবুল্লাহ এ পর্যন্ত প্রায় ১,৯০০ বার যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে।
সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট
মন্ত্রী হচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান
প্রতিমন্ত্রী হলেন সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক