বিশ্বে প্রতি বছর বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি কোম্পানি, সফটওয়্যার, অ্যাপ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্টার্টআপ, রোবটিক্স ও ডিজিটাল সেবার উদ্ভাবন হয়। এসব প্রযুক্তি প্রদর্শন, বিনিয়োগকারী সংগ্রহ ও ব্যবসায়িক চুক্তির জন্য চারটি ইন্টারন্যাশনাল ওয়েব সামিট আয়োজন করা হয়। এ বছরের প্রথম ওয়েব সামিট গত ১ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত হয়। ‘কাতার ওয়েব সামিট-২০২৬’ সামিটে বিশে^র ১২৭টি দেশের প্রতিনিধি, ১৬০০ স্টার্টআপ এবং ৯০০ জন বিনিয়োগকারী অংশগ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক ওই সামিটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং স্টার্টআপের শক্তিশালী ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। সম্মেলনে দেশটির সরকার তিন বিলিয়ন ডলারের স্টার্টআপ তহবিল গঠনের ঘোষণা দেন।
সম্মেলনে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, স্টার্টআপ হলো এমন ব্যবসা, যা সাধারণত প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে নতুন সমস্যা সমাধান করে, দ্রুত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করে এবং আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিনিয়োগ আকর্ষণ করে। বিশ্ব অর্থনীতি এখন স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে (ব্যবসার উদ্ভাবন ও বিকাশের পরিবেশ) গঠিত হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর ও স্টার্টআপ নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে উঠছে। স্টার্টআপ উদ্ভাবন বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুনভাবে রূপান্তর করছে। যেমন ফেসবুক বা উবার এ ধরনের কোম্পানিগুলো স্টার্টআপ হিসেবে যাত্রা শুরু হয়ে আজ বিশ্ববিখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিণত হয়েছে।
ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক কাঠামো অনেকাংশেই নির্ভর করবে স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের ওপর। এ কারণে বিশে^র বিভিন্ন দেশ প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ অর্থনীতির দিকে ঝুঁকছে। কাতার সরকার তাদের ওয়েব সামিটে স্টার্টআপ খাতে নতুন করে আরও ২ বিলিয়ন ডলার তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এ খাতে ১ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন করেছিল। বর্তমানে দেশটি স্টার্টআপ খাতে মোট ৩ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। স্টার্টআপ তহবিল সরাসরি না দিয়ে আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডে বিনিয়োগ করছে। যাতে করে নতুন তহবিলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা কাতারের বাজারে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক কাঠামো অনেকাংশেই নির্ভর করবে স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের ওপর। ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ফিনটেক এবং হেলথটেক স্টার্টআপ অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টার্টআপ অর্থনীতি নতুন ব্যবসা মডেল তৈরি করে, যা প্রচলিত শিল্প খাতে পরিবর্তন আনছে। বর্তমানে প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ায় নতুন উদ্যোক্তারা এখন কম বিনিয়োগে ব্যবসা শুরু করতে পারছেন। সফটওয়্যার উন্নয়ন, ডিজিটাল মার্কেটিং, অনলাইন শিক্ষা এবং ই-কমার্স খাতে স্টার্টআপ দ্রুত বিস্তার লাভ করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টার্টআপ অর্থনীতি শুধুই উদ্যোক্তা নয়, নতুন ব্যবসা মডেল, ডিজিটাল রূপান্তর এবং বিভিন্ন শিল্প খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। বর্তমানে প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে উদ্যোক্তারা এখন কম মূলধনে ব্যবসা শুরু করতে পারছেন। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবননির্ভর স্টার্টআপ ভবিষ্যতের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হবে। ডিজিটাল ব্যবসা সম্প্রসারণ কর্মসংস্থান বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় দেশগুলোকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
স্টার্টআপ অর্থনীতির জনপ্রিয় খাত হলো : আগামী দশকে এআই-ভিত্তিক স্টার্টআপ বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে। স্টার্টআপের প্রধান খাতগুলো হলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), ফিনটেক (ডিজিটাল ব্যাংকিং ও পেমেন্ট), হেলথটেক (ভার্চুয়াল চিকিৎসা, ডায়াগনস্টিক), শিক্ষা প্রযুক্তি ও ই-কমার্স, রোবোটিক্স ও অটোমেশন এবং পরিবেশ ও জলবায়ু প্রযুক্তি (ক্লিনটেক), সাইবার সিকিউরিটি এবং ডিজিটাল মিডিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের স্টার্টআপ বিনিয়োগের উত্থান বিশ্ব অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কাতারের উদ্যোগ শুধু অর্থায়ন নয়, বরং অঞ্চলকে বৈশ্বিক স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য এখন আন্তর্জাতিক স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলছে। কাতারের মতো দেশগুলো স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করছে। তবে স্টার্টআপ তহবিল সরাসরি না দিয়ে আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডে বিনিয়োগ করছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা কাতারের স্টার্টআপ খাতে প্রবেশ পাচ্ছে এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশেও স্টার্টআপ বেড়েছে। যেমন বিকাশ, পাঠাও, নগদ, শপআপ, চাল-ডাল, ১০ মিনিট স্কুল। বাংলাদেশে স্টার্টআপ অর্থনীতি তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি করছে, ডিজিটাল ব্যবসা বাড়াচ্ছে, বিদেশি বিনিয়োগ আনছে।
