মোমিন রহমানের কবিতা

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১৫ এএম

অতৃপ্তি

চোখের সমুখে সে উন্মোচিত

দণ্ডায়মান

শঙ্খের মতোন যুগল স্তন

নিচে বেলাভূমির তরঙ্গ

ঊরুসন্ধির কাছে বাঁ হাতে

আড়াল করে আছে

অরণ্য আর ঝরনাকে

ঠিক যেন বতিচেল্লির ভেনাস

এইমাত্র সাগর থেকে উঠে এসেছে...

ওই ঝরনায় অবগাহন

করি বারবার

তবু তৃষ্ণা মেটে না;

পরম পুলকের পরেও

অতৃপ্তি থেকে যায় আমার!

আসলে এ এক যুদ্ধ

আমার ‘আমি’-কে দয়িতার মাঝে

প্রোথিত করার প্রয়াস

কিন্তু হায়

এই যুদ্ধে

এই প্রয়াসে

ব্যর্থ হই আমি বারবার

তাই ভয়ংকর এই অতৃপ্তি আমার!

মুখোশ

প্রিয় মুখগুলো হারিয়ে গেছে মুখোশের ভিড়ে,

কোথায় খুঁজে পাই?

হেথায় খুঁজি, হোথায় খুঁজি;

খুঁজি জগৎ-সংসার।

নেই, নেই, কোথাও নেই।

দর্পণের সামনে এখন আমি;

ওই মুখটি কার?

আমার!

দুই ঠোঁটে ডেভিলের হাসি।

মুখকে খামচে ধরে উত্তোলিত আমার বাঁ হাত।

খুলে পড়ে মুখ নয়

মুখোশ

এক হ্যাঁচকা টানে!

উত্তোলিত হয় হাত পুনরায়

খসে পড়ে মুখোশ আবার!

এভাবে মুখোশ মেঝেতে পড়ে অবিরাম

রসুনের খোসার মতো।

এখন আমি ডুবে যাচ্ছি

রাশি রাশি মুখোশের মাঝে...

আঁধার ও অন্ধকার

আঁধার ও অন্ধকার, এক নয়।

আঁধার সুন্দর, মোহিনী নারীর মতো;

রূপের দ্যুতি ছড়ায় চারদিকে,

মুগ্ধ হয় মানুষ।

অন্ধকার কুৎসিত, যেন এক দানবী;

ডালপালার মতো অজস্র হাত বাড়িয়ে

বের হয় চরাচরে;

গিলে খেতে চায় সবকিছু।

এখন বিশ্বজুড়ে নেমেছে ঘোর অন্ধকার;

এই অন্ধকারে বিশ্ববাসী শুধু অন্ধ নয়,

মূক ও বধিরও।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত