টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রীর শপথ নিয়ে মঙ্গলবার রাতেই নিজের পরিকল্পনা সম্পর্কে একটা ধারণা দিয়েছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া আমিনুল হক। বুধবার নিজ মন্ত্রণালয়ে প্রথম অফিস করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও গোলরক্ষক। প্রথম কর্মদিবসেই প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রণালয়কে ৯ কর্মসূচি গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। দেশের ইতিহাসে প্রথম ক্রীড়াবিদ হিসেবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েই আমিনুল প্রথম দিনেই ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে নিজের এত বছরের ভাবনাগুলো বাস্তব রূপ দেওয়ার পথে হাঁটতে শুরু করেছেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম স্বাক্ষরিত প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে গৃহীতব্য কর্মসূচির একটি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচিতে উল্লিখিত সিদ্ধান্তগুলো জানিয়েছিলেন আমিনুল। যেখানে শুরুতেই তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠাকরণ বিষয়টি। সব খেলার জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের একটি স্থায়ী বেতন কাঠামোর আওতায় আনয়নের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর এ কর্মসূচির দায়িত্ব যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে মন্ত্রণালয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)। আগের রাতে আমিনুল বলেছিলেন খেলা ছাড়ার পর জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করা ক্রীড়াবিদদের অনেককেই মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। একটা আর্থিক নিরাপত্তা যাতে তাদের দেওয়া যায়, সে ব্যবস্থা নিতে চান। বলা কথার প্রতিফলন মিলেছে আমিনুলের কর্মসূচিতে।
কর্মসূচি তালিকার দ্বিতীয়তে রাখা হয়েছে খেলাধুলাকে জাতীয় শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক করার ব্যবস্থা নেওয়া। এই কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করবে মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া-১ ও ক্রীড়া-২ অনুবিভাগ, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বিকেএসপি। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অবশ্য ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। আমিনুল ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির মাধ্যমে ১২ থেকে ১৪ বছরের প্রতিভাবান ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচনী ইশতেহারে অবশ্য এই বৃত্তির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। এর পরেই নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অফিস স্থাপন ও ক্রীড়া অফিসার নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব আরোপ করেছেন। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্রীড়া পরিদপ্তরকে। দেশের ৬৪ জেলায় ইনডোর সুবিধা সম্পন্ন স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে আমিনুল ক্রীড়া অবকাঠামোকেও গুরুত্ব দিয়েছেন। ভিলেজ বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে বিকেএসপি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে সব মহানগরসহ দেশের গ্রামীণ জনপদে খেলার মাঠ স্থাপন ও উন্নয়নের ব্যবস্থা নেবেন আমিনুল। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও সুবিধাবঞ্চিতদের খেলার সুযোগ নিশ্চিত করাও আমিনুলের শুরুর কর্মসূচিতে স্থাপন পেয়েছে। আগের রাতেই তিনি দেশে একটি স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন। প্রথম কর্মদিবসে এই বিষয়টি তিনি অগ্রাধিকার তালিকায় লিপিবদ্ধ করেছেন। এই তালিকায় শেষ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে খেলাধুলা পরিচালনায় আর্থিক সংকট দূরীকরণের ব্যবস্থা নেওয়া। এক্ষেত্রে নতুন মন্ত্রী বিভিন্ন ব্যাংক, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রথম কার্যদিবসেই আমিনুল নিজের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে একটা ধারণা দিলেন। যদিও এই তালিকায় উল্লিখিত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে কোনো সময়কাল উল্লেখ করা হয়নি। বিপুল জনসংখ্যার দেশ হওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত অলিম্পিক গেমসে পদকহীন বাংলাদেশ। নতুন মন্ত্রীর অগ্রাধিকার তালিকায় অলিম্পিক পদককে লক্ষ্য রেখে ক্রীড়াবিদদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দিয়ে প্রস্তুত করার বিষয়টি উঠে আসেনি। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংস্কারের নামে ক্রীড়া ফেডারেশনগুলো থেকে একযোগে অভিজ্ঞ সংগঠকদের অপসারণ করে অনভিজ্ঞ এবং অনেক ক্ষেত্রে অযোগ্য ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছিল। ফলে অনেক ক্রীড়া ফেডারেশন হয়ে পড়েছে নিষ্ক্রিয়। আমিনুল কর্মসূচি তালিকায় ফেডারেশনগুলোর স্থবিরতা দূর করার কোনো পরিকল্পনা উল্লেখ করেননি।