বগুড়ায় অফিস বন্ধ রেখে আলু ঘাঁটি উৎসব উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম

তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের সরকার গঠনের শপথ গ্রহণ চলছিল, সেদিন সরকারি নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উপজেলা অফিসের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে উপজেলা অফিস ও মাঠপর্যায়ের ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আলু ঘাঁটি (পিকনিক) উৎসব করেছেন কাহালু উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন জাহান বিউটি।

উপজেলা অফিস ও মাঠপর্যায়ের ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছ থেকে জনপ্রতি ৩০০ টাকা চাঁদা আদায় করে এই আলু ঘাঁটি (পিকনিক) উৎসব করা হয় কাহালুর উপজেলার প্রায় সীমান্তে বীরকেদার বাসস্ট্যান্ডের ১০০ দক্ষিণে অবস্থিত রাবেয়া পার্কে।

কাহালু উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরে অবস্থিত। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে সরেজমিনে বগুড়ার কাহালু উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে গিয়ে বন্ধ দেখা যায়। সেদিন আর অফিস খোলা হয়নি। 

এ সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত কয়েকজনকে অফিস বন্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, অফিস বন্ধ করে আলু ঘাঁটি উৎসব করতে রাবেয়া পার্কে গিয়েছে। আলু ঘাঁটি উৎসব হলেও অফিসের মোট ৬০ জন ৩০০ টাকা করে চাঁদা দিয়ে এই উৎসবে গেছেন বলেও জানান তারা।

বিষয়টির সত্যতা খুঁজতে দেশ রূপান্তর প্রতিবেদক উপজেলা অফিস থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে রাবেয়া পার্কে গিয়ে সত্যতা পান বিষয়টির। সেখানে গিয়ে দেখা যায় দুটি সেড ভাড়া নিয়ে রান্নাবান্না করে চলছে পিকনিকের আয়োজন। চলছে খাওয়া দাওয়া, খাওয়া দাওয়া শেষে লটারির আয়োজন।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারি অফিস কার্য চলাকালীন দিনে অফিস বন্ধ রেখে পিকনিকের আয়োজন করার কোন বিধান নেই। সরকারি বন্ধের দিনে সাধারণত বনভোজন, পিকনিক বা উৎসবের আয়োজন করার সুযোগ রয়েছে। তবে অফিস চলাকালীন দিনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে এমন আয়োজনেরও তেমন নজির নেই বলেও জানা গেছে।

এদিকে কাহালু উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন জাহান বিউটির বিষয়ে খোজ নিতে গিয়ে বেরিয়ে আসে অপকর্মের আরও নানা অভিযোগ। জানা যায়, বগুড়া জেলায় এসেছেন বেশ কয়েকবছর আগে। তিনি নন্দীগ্রাম, শাজাহানপুর ও শিবগঞ্জে কর্মরত ছিলেন। প্রত্যেক উপজেলায় তার বিরুদ্ধে কর্মচারীদের কাছ থেকে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের যে কোন সরকারি সুবিধা নিতে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিউটিকে ঘুষ দিতে হয়। বিশেষ করে প্রভিডেন্ট এর টাকা, টিএবিল, এলপিআর, পেনশন ঘুষ ছাড়া করেন না। তাকে ঘুষ না দিলে কর্মকর্তা কর্মচারীরা কোন সরকারি বৈধ বিল তুলতে পারেন না।

সরকারি কার্যচলাকালীন দিনে অফিস বন্ধ করে পিকনিক বা আলু ঘাঁটি উৎসব করার কোন বিধান রয়েছে কিনা এ বিষয়ে বগুড়া জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক প্রসেনজিৎ প্রণয় মিশ্র বলেন, অফিস বন্ধ রেখে পিকনিক বা উৎসব করার কোন সুযোগ নাই। ছুটির দিনে এধরনের আয়োজন করা যেতে পারে। 

মাসিক কোন মিটিং অফিস বন্ধ করে অনত্র করার বিষয়েও তিনি বলেন, মাসিক মিটিং করতে হলে তা পূর্বেই পরিকল্পনা থাকে। মিটিং অফিসের বাহিরে করার সুযোগ নেই।

অনৈতিক সুবিধার বিষয়ে উপপরিচালক প্রণয় মিশ্র বলেন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিউটি যদি অনৈতিক সুবিধা বা ঘুষ নিয়ে থাকেন তাহলে তার লিখিত অভিযোগ দিতে হবে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, কর্মীদের বিভিন্নে বিলে ঘুষ নেয়ার বিষয়টি মিথ্যা দাবি করেছেন কাহালু উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন জাহান বিউটি। অফিস বন্ধ রেখে আলু ঘাঁটি উৎসবের বিষয়ে তিনি বলেন, বীরকেদারের মিটিং ছিল। সেই মিটিং শেষে আলু ঘাঁটি উৎসবে গিয়েছি। আসলে কর্মীদের আনন্দের জন্য এমন আয়োজন তারা করেছে। আমি শুধু অংশগ্রহণ করেছি। বেলা ১২টা থেকে অফিস বন্ধ ছিল। তবে বীরকেদারে মিটিংয়ের কোন সত্যতা তিনি দেখাতে পারেননি। 

সরকারি নিয়ম নীতি না মানার বিষয়ে তিনি বলেন, অফিস বন্ধ রাখা হয়নি সারাদিন। তবে, সরকারি নিয়ম নীতির কিছুটা ব্যাত্যয় ঘটেছে বলে স্বীকার করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত