ভাষায় জেগে ওঠা রাষ্ট্র

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৪ এএম

ভাষা আন্দোলন মানে আত্মপরিচয়, আধুনিকতা ও প্রগতি চেতনার সম্মিলিত উন্মেষের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। যে সংগ্রাম রাষ্ট্রভাষার দাবিতে শুরু হয়েছিল, তার উত্তরপ্রভাবে পূর্ববাংলার সাহিত্য-সংস্কৃতি এক নতুন বৌদ্ধিক যুগে প্রবেশ করে। একুশ শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, এটি সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের ভিত্তিস্তম্ভ। গতকাল ছিল, রক্ত দিয়ে বাংলা ভাষা আদায়ের দিন। আর এই মাস হচ্ছে, বাংলা ভাষার নতুন উপলব্ধির সময়। একইসঙ্গে বলা ভালো, বছরের ৩৬৫ দিন যেন আমরা এটি হৃদয়ে ধারণ করি। ভাষা আন্দোলনের পেছনে রয়েছে, দীর্ঘ আর্থ-সামাজিক বৈষম্য, রাজনৈতিক বঞ্চনা এবং সাংস্কৃতিক অবমূল্যায়নের স্তরীভূত বাস্তবতা। ব্রিটিশ-ভারতের অবিভক্ত বাংলায় মুসলমান সমাজের পশ্চাৎপদতা এবং আত্মপ্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষা পৃথক রাষ্ট্রের ধারণাকে জনপ্রিয় করে তুলেছিল। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে যে নতুন রাষ্ট্র কাঠামোর সূচনা হয়েছিল, তার ক্ষমতার কেন্দ্র দ্রুত বাঙালি সমাজ থেকে দূরে সরে যায়। ধর্মীয় পরিচয় তখন রাজনৈতিক শক্তির ভাষা হয়ে ওঠে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভাষানীতি হয়ে ওঠে, আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রধান হাতিয়ার। উর্দুকে একক রাষ্ট্রভাষা করার প্রচেষ্টা ছিল রাজনৈতিক ক্ষমতার বিন্যাস। ভাষা প্রশ্নে বাঙালির প্রতিবাদ তাই সাংস্কৃতিক আবেগের পাশাপাশি রাজনৈতিক আত্মরক্ষার প্রক্রিয়া হিসেবে হাজির হয়। রাষ্ট্রীয় কাগজপত্রে বাংলা অনুপস্থিত থাকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছিল বাস্তবতার অনিবার্য বহিঃপ্রকাশ। ভাষা আন্দোলনের সামাজিক ভিত্তি ছিল শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি। এই শ্রেণি দ্রুত উপলব্ধি করেছিল যে, ভাষার প্রশ্নে আপস মানে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত হওয়া। তাই আন্দোলনের শক্তি এসেছিল ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের আবেগ থেকে, যা এবং শ্রেণিস্বার্থের সীমা অতিক্রম করে মাতৃভাষার প্রশ্নে এক অভূতপূর্ব ঐক্য গড়ে ওঠে।

একুশ পরবর্তী সময় ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে আমরা দেখেছি, ভাষা আন্দোলনের ঐক্যের ভেতরেই ছিল অন্তর্লীন দ্বন্দ্ব। আন্দোলনের নেতৃত্বের যে মধ্যবিত্ত শ্রেণির হাতে, সেই শ্রেণির একাংশ উচ্চশিক্ষা ও ক্ষমতার ভাষা হিসেবে বিদেশি ভাষার ওপর নির্ভরতা বজায় রাখে। ফলে ভাষা আন্দোলন জাতীয় মর্যাদার প্রতীক হলেও, সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা পায়নি। ভাষা আন্দোলনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান হলো এটি জাতিসত্তাকে ভাষাভিত্তিক রাজনৈতিক চেতনায় জন্ম নেয় অধিকারবোধ; অধিকারবোধ থেকে জন্ম নেয় স্বাধিকার আন্দোলন-সংগ্রামের আকাক্সক্ষা, যার ধারাবাহিকতায় আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। এই সংগ্রামের উত্তরপ্রভাবে সাহিত্য-সংস্কৃতিতে এক মৌলিক পরিবর্তন ঘটে। আধুনিকতা, জাতীয় চেতনা, প্রগতিবাদ এবং লোক-সংস্কৃতির পরিশীলিত প্রকাশ একুশোত্তর সাহিত্য সৃষ্টির প্রধান বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়। ভাষা আন্দোলনের রাজনৈতিক অভিঘাত প্রগতি সাহিত্যের বিকাশকে ত্বরান্বিত করে; ভূমিসংলগ্ন মানুষের জীবন, শ্রেণিসংঘাত এবং সামাজিক বাস্তবতা সাহিত্যিক সৃষ্টির কেন্দ্রে স্থান পায়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে গণদাবি-ভিত্তিক রাজনীতির উত্থান সাংস্কৃতিক মুক্তির পরিবেশ সৃষ্টি করে। ক্ষমতার একক আধিপত্য দুর্বল হলে মতপ্রকাশের ক্ষেত্র প্রসারিত হয়। যা সাহিত্য-সংস্কৃতিতে প্রত্যক্ষভাবে প্রতিফলিত হয়। রাজনীতি যেখানে টানাপড়েনে অস্থির, সাহিত্য সেখানে ধীর কিন্তু দৃঢ় অগ্রযাত্রার পথে এগোয়।

বায়ান্ন-উত্তর শহীদ দিবসকে ঘিরে প্রকাশিত বই, স্মরণিকা, সংকলন ও কবিতার বিশাল ভাণ্ডার ভাষা ও ভূখণ্ডভিত্তিক আবেগের নতুন সাহিত্যধারা নির্মাণ করে। এই সাহিত্য সর্বত্র সমমানের না হলেও জাতীয় চেতনার ভিত গঠনে তার ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। একুশকে ঘিরে সৃষ্ট সাহিত্য শুধু স্মৃতিচর্চা নয়, তা ভবিষ্যৎ নির্মাণের স্বপ্ন। পঞ্চাশের দশক থেকে ছাত্র-যুবসমাজে প্রগতি সাহিত্যপাঠের বিস্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঘটনা। বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে পরিচয়, সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সৃজনশীল সংলাপ এবং নতুন ভাষাশৈলীর উদ্ভব সব মিলিয়ে সাহিত্যিক মানসগঠনে এক বৌদ্ধিক পরিবর্তন সূচিত হয়। এই পরিবর্তনের সংগঠিত প্রকাশ দেখা যায় সাহিত্য সম্মেলনগুলোর আদর্শিক উচ্চারণে কুমিল্লা (১৯৫২), কার্জন হল (১৯৫৪) এবং কাগমারী (১৯৫৭)। এসব সম্মেলনে স্বাদেশিকতা, প্রগতিচেতনা ও গণমুখী সংস্কৃতির রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কবিতা, কথাসাহিত্য, নাটক ও প্রবন্ধ সব ধারাতেই নতুন মননশীলতার বিকাশ ঘটে। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে সাহিত্য, নাটক, গণসংস্কৃতি ও গণসংগীতে এই চেতনার ব্যাপক প্রকাশ দেখা যায়। বিদেশি প্রগতিধর্মী সাহিত্যপাঠের বিস্তার তরুণ প্রজন্মের মানসগঠনে প্রভাব ফেলে। এভাবে ভাষা আন্দোলন সাংস্কৃতিক আধুনিকতার ভিত্তি নির্মাণ করে। ভাষা আন্দোলনের প্রভাবেই সাহিত্য-সংস্কৃতিতে মাটি ও মানুষের বাস্তব জীবন প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে। লোকসংস্কৃতি আধুনিক প্রকাশের উৎসে পরিণত হয়। ভাষিক আবেগ ক্রমে জাতীয়তাবাদী চেতনায় পরিণত হয়, আর সেই চেতনা রাজনৈতিক ইতিহাসের গতিপথ নির্ধারণ করে। ভাষা আন্দোলনের প্রেরণা যুক্তফ্রন্টের উত্থানে ভূমিকা রাখে। কিন্তু কেন্দ্রীয় শাসকগোষ্ঠীর হস্তক্ষেপে গণতান্ত্রিক সম্ভাবনা ব্যাহত হয়। তবু জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ থেমে থাকে না। ২১ দফা থেকে ৬ দফা, ১১ দফা হয়ে আন্দোলন জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবিতে রূপ নেয়। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সেই চেতনাকে বিস্ফোরক শক্তিতে পরিণত করে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে এই ঐতিহাসিক সঞ্চয় রাজনৈতিক ফলাফল লাভ করে। জাতীয়তাবাদী দাবির ভিত্তিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিপুল বিজয় অর্জন করে। এই জনসমর্থনের ধারাবাহিকতায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সর্বজনীন, অসাম্প্রদায়িক চরিত্র থাকা সত্ত্বেও স্বাধীন রাষ্ট্রে সেই আদর্শের পূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটেনি। এ সত্য ইতিহাসের নির্মম শিক্ষা। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় ভাষার পূর্ণ প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা যায়নি। প্রশাসন, উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞানচর্চা, বিচারব্যবস্থা সবখানে বাংলা এখনো সীমিত। ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রে এই বাস্তবতা এক গভীর তাত্ত্বিক অসংগতি নির্দেশ করে। ভাষার অধিকার পূর্ণ প্রতিষ্ঠা না হলে গণতন্ত্রও পূর্ণতা পায় না, কারণ ভাষা নাগরিকের রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের প্রধান মাধ্যম ও ভিত্তি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সামাজিক রূপান্তরের অপূর্ণতা। ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধ উভয়ই অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক আদর্শে অনুপ্রাণিত হলেও স্বাধীনতার পর সেই আদর্শ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। সামাজিক রক্ষণশীলতার ভিত অটুট থাকে, অর্থনৈতিক বৈষম্য বজায় থাকে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি উপেক্ষিত হয়। এই শূন্যতার সুযোগে ধর্মীয় মৌলবাদী শক্তি পুনরুত্থানের পথ খুঁজে পায়। এখানে রাষ্ট্র ও সমাজের দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

একদিকে আধুনিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের আকাক্সক্ষা, অন্যদিকে ঐতিহাসিকভাবে প্রোথিত ধর্মীয় ও সামাজিক রক্ষণশীলতা। এই দ্বন্দ্ব সমাধানের জন্য ভাষাভিত্তিক অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি অপরিহার্য ছিল। সর্বস্তরে বাংলা প্রচলন প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, শিক্ষার গণমুখিতা এবং বিচারপ্রাপ্তির সমতা নিশ্চিত হলে প্রান্তিক ভাষা ও সংস্কৃতির সাংবিধানিক স্বীকৃতিও শক্তিশালী হতো। জাতীয়তাবাদ নিজেই দ্বিমুখী বাস্তবতা ধারণ করে। একদিকে এটি মুক্তির শক্তি, অন্যদিকে তা শ্রেণিস্বার্থের বাহন হয়ে উঠতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের পর রাষ্ট্রে এই দ্বৈততা প্রকট হয়েছে। সর্বজনীন স্বার্থের পরিবর্তে, সংগঠিত শ্রেণিস্বার্থ প্রাধান্য পাওয়ায় কারণে সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু রাজনীতির পুনরাবির্ভাব এই দুর্বলতার প্রতিফলন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নেতৃত্বে থাকা শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃত্ববাদী পথে হাঁটেন। রাজনৈতিক কেন্দ্রীকরণ, একদলীয় শাসন, দলীয়করণ, দুর্নীতির বিস্তার এবং চরম অর্থনৈতিক সংকট সবকিছু মিলিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রের ধারণাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই ভেঙে পড়া ব্যবস্থার মধ্যে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশকে নতুনভাবে দাঁড় করানোর প্রয়াস নেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি ও নারীশিক্ষায় জোর দিয়ে, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি গড়ে তুলে তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের জন্য নীতি নির্ধারণ করেন। শহীদদের স্বপ্ন ও সাধারণ মানুষের আকাক্সক্ষার সঙ্গে তার রাজনৈতিক উদ্যোগের সংলগ্নতা ছিল, যদিও নানা প্রতিবন্ধকতায় তা পূর্ণতা পায়নি।

এরপর জেনারেল এরশাদের শাসনামলে সামরিক শাসনের দীর্ঘ ছায়া পড়ে। এই সময়ে গণতন্ত্র আরও পেছনে পড়ে যায় দুর্নীতি, দমননীতি এবং রাষ্ট্রীয় অনৈতিকতা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে আরও দূরে সরিয়ে দেয়। ১৯৯১ সালে গণআন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হলেও, পরবর্তী সময় আওয়ামী লীগের শাসন (২০০৯-২০২৪) সেই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার বদলে দুর্বল করে দেয়। বিরোধী দল দমন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, ধর্ষণ, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের মাধ্যমে একপ্রকার ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে ওঠে। একের পর এক ভোটারবিহীন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র কাগজে রয়ে যায়, বাস্তবে নয়। এরই প্রতিবাদে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ছিল একটি নতুন প্রত্যয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার পক্ষে। হাজারো তরুণ জীবন উৎসর্গ করে বৈষম্যহীন সমতার বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। তারপর অন্তর্বর্তী আমল পেরিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। গণচেতনাবিস্মৃত শাসকচরিত্র হচ্ছে জনগণের ইতিহাস, আত্মত্যাগ, মূল্যবোধ ও স্বপ্ন থেকে ধীরে ধীরে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্মলগ্নের গণচেতনা যেমন ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের সংগ্রাম এসবকে প্রাণবন্ত অভিজ্ঞতা নয়, বরং এই শক্তি আনুষ্ঠানিক স্মরণে তা সীমাবদ্ধ করে ফেলে। ক্ষমতার স্থায়িত্ব ও নিজস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে জনগণের যাপিত বাস্তবতা, ভাষা, সংস্কৃতি ও স্বপ্নকে উপেক্ষা করে। তারা শাসন করে, কিন্তু জনকল্যাণ নিশ্চিত হয় না। তাদের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশগ্রহণ অনুপস্থিত থাকে। যে কারণে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে এক ধরনের নৈতিক শূন্যতা যেখানে কর্তৃত্ব আছে, কিন্তু দায়বদ্ধতা নেই; উন্নয়নের ভাষা আছে, কিন্তু জনসাধারণের অন্তর্ভুক্তি নেই। এটি কি শুধুই রাজনৈতিক ব্যর্থতা? না, এটি একটি রাষ্ট্রের নৈতিক ও আদর্শিক বিপর্যয়ের বহিঃপ্রকাশ। তবু একুশের শিক্ষা অম্লান। একুশের অগ্নিস্মৃতি শুধু অতীতের গৌরব নয়, এটি আমাদের বর্তমানের দায় ও ভবিষ্যতের পথনির্দেশ। ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা মানে, নাগরিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা। ভাষার অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রয়োগ, অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণ এবং সামাজিক ন্যায়ের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পুনর্গঠন সময়ের দাবি। আজকের প্রধান রাজনৈতিক প্রশ্ন তাই রাষ্ট্র কি ভাষাভিত্তিক মানবিক আধুনিকতার পথে অগ্রসর হবে, নাকি ক্ষমতার স্বার্থে সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে উপেক্ষা করবে? ইতিহাসের অভিজ্ঞতা বলে, ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর দাঁড়ানো রাজনীতি দীর্ঘস্থায়ী, আর বিচ্ছিন্ন ক্ষমতার রাজনীতি অস্থায়ী।

লেখক: গবেষক ও কলাম লেখক

[email protected]

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত