কিছু পণ্যের দাম কমছে

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৫ এএম

রমজান মাস শুরুর আগে থেকেই নিত্যপণ্যের বাজারে যে উত্তাপ ছিল তা কিছু কিছু পণ্যে কমতে শুরু করেছে। গতকাল তৃতীয় রোজা শনিবার রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে দেখা গেছে, লেবুর দাম কমতে শুরু করেছে। দাম কমলেও এখনো তা স্বাভাবিক পর্যায়ে আসেনি, চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারে ব্রয়লার মুরগি, কাঁচা মরিচ এবং দেশি পেঁয়াজের দাম কমছে।

ক্রেতা ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার তদারকি ও চাঁদাবাজি বন্ধে কড়াকড়ি চলছে। ফলে, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি থেকে গেছে। রোজার শুরুতে পণ্যমূল্য কিছুটা বেশি থাকলেও এখন দাম কমতে শুরু করেছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, এবারে রোজার আগে সবচেয়ে বেশি বেড়েছিল লেবুর দাম। মাঝারি থেকে বড় আকারের প্রতি হালি লেবুর দাম উঠেছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। এ জন্য ব্যবসায়ীরা অপরিণত লেবুও বাজারে তুলে চড়া দামে বিক্রি শুরু করে। তবে অতিরিক্ত দাম হওয়ার কারণে ক্রেতা কেনা কমিয়ে দেয়। চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরাও দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছে। এর প্রভাবে বাজারে বিক্রি হওয়া ১০০ থেকে ১২০ টাকা হালিতে বিক্রি হওয়া লেবু এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের লেবু বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা হালিতে। তবে ক্রেতারা বলছেন, লেবুর এই দাম এখনো স্বাভাবিক হয়নি। কারণ এখনো চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে পণ্যটি।

বাড্ডার সবজি বিক্রেতা অরিফুর রহমান জানান, দাম বেশি হওয়ায় চাহিদা কম। ফলে বিক্রি কমে গেছে। পাইকারদের কাছে লেবুর মজুদ বেড়েছে। এজন্য তারা দাম কমিয়ে  লেবু ছেড়ে দিচ্ছে। এতেই খুচরা বাজারে দাম কমেছে। তিনি বলেন, তিনদিন আগে যে লেবুর হালি ১০০ টাকার বেশি বিক্রি করেছি, তা আজ (গতকাল) বিক্রি করছি ৭০ টাকায়।

তবে শসার দাম কমেনি। প্রতি কেজি হাইব্রিড শসা মান ও বাজারভেদে এখনো ১০০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। শসার দাম না কমলেও কমেছে কাঁচা মরিচের দাম। প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ রোজার আগ মুহূর্তে ২০০ টাকা কেজিতে উঠে যায়। যা আবার কমে এখন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। জানা যায়, কাঁচা মরিচের ভরা মৌসুম হওয়ায় সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি নেই। তাই ব্যবসায়ীরা চাইলেও মরিচের দাম খুব বেশি বাড়াতে পারেনি। তিন-চারদিনের জন্য যেটুকু বেড়েছিল তা আবার কমতে শুরু করেছে। কারণ কাঁচা মরিচের কোনো সংকট নেই। তাছাড়া কাঁচা মরিচ বেশি সময় সংরক্ষণও করে রাখা যায় না।

এছাড়া কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। রোজার শুরুতে সস্তা প্রোটিনের উৎস হিসেবে পরিচিত ব্রয়লার মুরগির মাংসের দাম বেড়েছিল। কারণ এ সময় চাহিদা বেড়ে গিয়েছিল। তবে এখন আবার খানিকটা কমে গেছে। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগির মাংস রোজার শুরুতে বাজারভেদে ২০০ থেকে ২২০ টাকায় উঠেছিল। তবে এই দাম কমে আবার ১৮৫ টাকা থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

গুদারাঘাটের মুরগি বিক্রেতা শফিকুল বলেন, ব্রয়লার মুরগি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। যা ২০০ টাকা ছাড়িয়েছিল। তিনি বলেন, রোজা শুরুর দিকে একটু বাড়তি চাহিদা থাকে। যে চাপে অল্প দাম বেড়েছিল। এখন আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে এসেছে।

এদিকে দাম কমার তালিকায় দুদিন আগেই যুক্ত হয়েছে পেঁয়াজের দাম। তবে তা দাম বৃদ্ধির আগে যে পর্যায়ে ছিল এখনো সেখানে আসেনি। ঢাকার খুচরা বিক্রেতারা প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। যা রোজার আগ মুহূর্তে ৭০ টাকায় উঠেছিল। বিক্রেতারা বলছেন, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। কিন্তু রোজাকে সামনে রেখে প্রায় দেড় সপ্তাহে ৭০ টাকায় নিয়ে যান বিক্রেতারা। তবে মৌসুমে ব্যাপক সরবরাহের কারণে এই দাম ধরে রাখতে পারেনি। ফলে আবার দাম কমতে শুরু করেছে।

তবে মাছের দাম এখনো চড়া। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কেজিতে মাছের জাতভেদে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দাম দিয়ে মাছ কিনতে হচ্ছে ভোক্তাকে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত