প্রথমবারের মতো শহীদ মিনারে জামায়াত

রাজনীতিতে কৌতূহল

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৩ এএম

দেশের ইতিহাসে প্রথম বারের মতো জামায়াতে ইসলামীর কোনো আমির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর নির্বাচনী জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে ভাষাশহীদের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন। এ সময় তার সঙ্গে দলীয় সংসদ সদস্য ছাড়াও এনসিপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর জামায়াত আমির বিরোধীদলের নেতাদের নিয়ে আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে ভাষাশহীদদের কবর জিয়ারত করেন। তাদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন। এদিকে প্রথমবারের মতো জামায়াত নেতাদের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর ঘটনায় নানা আলোচনা হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চব্বিশের অভ্যুত্থানে বদলে যাওয়া প্রেক্ষাপট ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিরোধীদলের আসনে বসার পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিলেন জামায়াত আমির। এর আগে ভাষাদিবস উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা, শহীদদের কবর জিয়ারতের মতো কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াত ও ছাত্রশিবির। এবার শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার পর নানা সমালোচনার মুখোমুখি হয় জামায়াত। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা ও ভাষা-সংস্কৃতি নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেন অনেকেই। অবশ্য কেউ কেউ বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর পর জামায়াতের শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ‘মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সবাই শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। তাই এটা নিয়ে কোনো বিতর্ক না করার আহ্বান জানাই। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলামও বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এ নিয়ে জামায়াতের দুজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জামায়াতের মহানগর পর্যায়ের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জামায়াত সব সময় ভাষাশহীদদের সম্মান করে। প্রতি বছরই কর্মসূচি পালন করে। এমনকি ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেও ভাষার মাসের কর্মসূচি পালন করেছে। তিনি বলেন, আমরা ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সব স্বাধিকার আন্দোলন ধারণ করেই রাজনীতি করি। মানুষের মুক্তির যে আকাক্সক্ষা সেটা পূরণে আমরা বদ্ধপরিকর। কিন্তু একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী সব সময় আমাদের পেছনে ঠেলে দিতে চায়। তাদের মুখোশ উন্মোচন শুরু হয়েছে। এসব ষড়যন্ত্র দেশের মানুষই রুখে দেবে।

এদিকে, শহীদ মিনার থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। এতদিন জামায়াত ফুল দিতে আসেনি শহীদ মিনারে এবার কী মনে করে এলেন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সঙ্গীদের নিয়ে আমাকে আসতে হবে, তাই এসেছি।’

শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে জামায়াত এখনো ‘নাজায়েজ’ মনে করে কি নাএমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আপনি এ প্রশ্ন কেন আজকে করছেন। এ রকম একটা পবিত্র দিনে এমন প্রশ্ন না করাই ভালো।’ এরপর শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আসলে ভাষাশহীদদের আগে ৪৭ এ যারা শহীদ হয়েছেন তাদেরও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। বায়ান্নর শহীদদেরও স্মরণ করি। একাত্তরের শহীদদের স্মরণ করি, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করি, এরপরে যারা ফ্যাসিবাদের হাতে শহীদ হয়েছেন তাদেরও স্মরণ করি। তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের সবাইকে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।’ শেষ পর্যন্ত আমরা স্মরণ করি যারা জুলাই যোদ্ধা হিসেবে জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে শহীদ হয়েছেন তাদের। ওসমান হাদিকেও আমরা স্মরণ করি।

তিনি বলেন, ‘জাতির মুক্তি না আসা পর্যন্ত ফ্যাসিবাদমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন না হওয়া পর্যন্ত, একটা মানবিক দেশ গঠনের জন্য আমাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। এবং কোনো অপকর্মের সঙ্গে আমরা আপস করব না।’ এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, এনসিপির হাসনাত আব্দুল্লাহ, আখতার হুসেইনসহ অন্যরা ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত