দেশের এক-দশমাংশ এলাকা নিয়ে তিন পার্বত্য জেলা গঠিত। সবুজ প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের অনন্য আধার পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৪টি জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। বিশাল এলাকা নিয়ে তিন পার্বত্য জেলা বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও বহুমাত্রিক সমস্যা এ অঞ্চলকে এখনো পিছিয়ে রেখেছে। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিন পার্বত্য জেলার তিনটি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে রাঙ্গামাটি আসন থেকে প্রথম মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন দীপেন দেওয়ান। এ ছাড়া বান্দরবানে জয়লাভ করেছেন সাচিং প্রু জেরী এবং খাগড়াছড়ি আসনে জয়ী হয়েছেন ওয়াদুদ ভূঁইয়া। নির্বাচিত হওয়ার পর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ভূমি সমস্যার সমাধান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতাসহ আর্থসামাজিক উন্নয়নই সাংসদদের প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ ছাড়া এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জননিরাপত্তা, পর্যটনের উন্নয়নসহ দুর্নীতি দমনে কাজ করার ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয়রা।
রাঙ্গামাটি দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির (দুপ্রক) সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, দীপেন দেওয়ান প্রচারণাকালে তৃণমূলপর্যায়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ অবকাঠামোর ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নসহ কর্মসংস্থান ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বলেছেন। এতে মানুষ প্রভাবিত হয়ে ভোট দিয়েছেন। এখন এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই প্রধান চ্যালেঞ্জ।
খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. সুধীন কুমার চাকমা বলেন, দুর্গম এলাকার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা খুব নাজুক। জেলার শান্তি, সম্প্রীতির পরে যেন প্রাথমিক শিক্ষার ওপর জোর দেন নতুন সংসদ সদস্য।
সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি প্রফেসর বোধিসত্ত্ব দেওয়ান বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হলে শান্তি ফিরে আসবে আর শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে। খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে অনার্স কোর্স চালু হলেও শিক্ষক সংকট আর শিক্ষকদের নেই কোনো ভালো আবাসন। এসব সংকট দূর করতে হবে।
বান্দরবানের ক্রীড়া সংগঠক মাহফুজুর রশীদ বাচ্চু বলেন, বিগত সরকারের আমলে বান্দরবান জেলায় পরিকল্পিত কোনো উন্নয়ন হয়নি। খোদ জেলা শহরে পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসন করতে পারেনি। জেলা সদরটি অগোছালোই রয়ে গেছে। এ অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, যোগাযোগব্যবস্থা এবং ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে নতুন সংসদ সদস্যকে।
