গৃহকর্মী সেজে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে গৃহকর্ত্রীকে হত্যা

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৭ এএম

রাজধানীর উত্তরায় গৃহকর্মী সেজে বাসায় ঢুকে বৃদ্ধ দম্পতিকে উচ্চমাত্রার চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে স্বর্ণালংকার ও টাকা লুটের ঘটনায় গৃহকর্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ হত্যাকা-ের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে মূল অভিযুক্ত গৃহকর্মী বিলকিস বেগম (৪০) ও চোরাই স্বর্ণের ক্রেতা জুয়েলারি দোকান মালিক রবিউল আউয়ালকে (৫৩)।

গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিবিআইয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রো (উত্তর)-এর অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাতনামা এক নারী মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে উত্তরা পশ্চিম থানার একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নেন। কেয়ারটেকারের কাছে নিজের নাম ‘মমতাজ’ এবং বাসার সদস্যদের কাছে ‘মারুফা’ পরিচয় দিলেও তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা ঠিকানা পরে দেবেন বলে জানান। এর তিন দিন পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে বাসার মালিকের স্ত্রী ও সন্তান বেড়াতে গেলে বাড়িতে শুধু বৃদ্ধ দম্পতি আয়শা আক্তার (৬২) ও আনোয়ার হোসেন (৬৮) অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যায় তাদের বড় ছেলে মো. জাকারিয়া হোসেন ফোনে বাবার অসংলগ্ন কথা শুনে বাসায় গিয়ে দেখেন, তার মা বিছানায় অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন এবং বাবা অসুস্থ হয়ে কাতরাচ্ছেন। তাদের দ্রুত লুবানা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আয়শা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। আনোয়ার হোসেন বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

পিবিআই জানায়, বাসা থেকে ৫ ভরি ১০ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার, অন্য কক্ষ থেকে আরও ৬ ভরি স্বর্ণ এবং আলমারি থেকে নগদ ১ লাখ টাকা চুরি হয়েছে। পাশের বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে গৃহকর্মী ওই বাসায় প্রবেশ করেন এবং দুপুর আড়াইটার দিকে একটি পলিথিন ব্যাগ হাতে বেরিয়ে যান।

তদন্তে জানা যায়, বিলকিস বেগম পানির সঙ্গে ১০টি চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে ওই দম্পতিকে খাইয়েছিলেন। অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগের ফলেই আয়শা আক্তারের মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা হলে পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে।

সংবাদ সম্মেলনে এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ক্লু-লেস। তবে আধুনিক প্রযুক্তি ও পূর্বের মামলার তথ্যভা-ার (ডেটাবেজ) বিশ্লেষণ করে বিলকিসকে শনাক্ত করা হয়। বিভিন্ন থানার পুরাতন মামলা থেকে তার ছবি সংগ্রহ করে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দেখালে তারা তাকে চিনতে পারেন। এরপর পিবিআইয়ের একাধিক টিম গাজীপুর চৌরাস্তার আউটপাড়া এলাকা থেকে বিলকিসকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত