উ. কোরিয়ায় কিমের নেতৃত্বের মেয়াদ ফের বাড়ল

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১০ পিএম

উত্তর কোরিয়ার আলোচিত নেতা কিম জং-উনের নেতৃত্বের সময় আরো দীর্ঘায়িত হচ্ছে। দেশটির ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির সেক্রেটারি-জেনারেল হিসেবে আবারও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এতে দলটিতে তাঁর ১৫ বছর ধরে চলা নেতৃত্ব আরও লম্বা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল রবিবার দলীয় কংগ্রেসের চতুর্থ দিনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদেরও নির্বাচন করা হয়েছে। এতে দলের কিছু নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। উত্তর কোরিয়ায় প্রতি পাঁচ বছর পর ওয়ার্কার্স পার্টির কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

২০১১ সালে বাবা কিম জং ইলের মৃত্যুর পর থেকে কিম জং-উন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৯ সালে দেশটির পার্লামেন্ট সংবিধান পরিবর্তন করে এবং সব রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কিম জং-উনের ক্ষমতাকে একক ও অখণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ওই সময় কিম জং-উনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধান ঘোষণা করা হয়। চলতি বছর ওয়ার্কার্স পার্টির কংগ্রেসে কিম দলের গত পাঁচ বছরের কাজ মূল্যায়ন করেছেন এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য নতুন পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে কিম বলেন, আমাদের নিজস্ব ধাঁচে সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গত পাঁচটি বছর ছিল গর্বের সময়। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, এ ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ও বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য সংকটের মতো বিষয়গুলো চ্যালেঞ্জ হিসেবে ছিল। কংগ্রেসে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চোয়ে সন হুইসহ উচ্চপর্যায়ের অন্যান্য কর্মকর্তাও বক্তব্য দিয়েছেন। কংগ্রেসের আগে কিম একটি অনুষ্ঠানে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন কয়েক ডজন রকেট লঞ্চার উন্মোচন করেন। এগুলোকে তিনি ‘দারুণ’ ও ‘আকর্ষণীয়’ বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে কিম জং উন পুনরায় দলীয় প্রধান নির্বাচিত হওয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় শি জিনপিং চীন-উত্তর কোরিয়া বন্ধুত্বের এক ‘নতুন অধ্যায়’ রচনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। চীন উত্তর কোরিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং প্রধান মিত্র হলেও পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং রাশিয়ার সাথে ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বেইজিং কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আগামী কয়েক দিনে এই কংগ্রেস থেকে দেশটির পরবর্তী সামরিক ও কৌশলগত পরিকল্পনার বিস্তারিত ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত