আজ থেকে আর দিতে হবে না ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্ক

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩০ এএম

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত অতিরিক্ত ‘পাল্টাপাল্টি শুল্ক’ সংগ্রহ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের এই আদেশ অনুযায়ী, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে দেশটিতে সমস্ত অতিরিক্ত শুল্ক সংগ্রহ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপি-র বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন কাস্টমস ও সীমান্ত সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ (সিবিপি)।

ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন এজেন্সির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আদালতের রায় বাস্তবায়নে তারা ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। কার্গো সিস্টেমস মেসেজিং সার্ভিসের (সিএসএমএস) মাধ্যমে জাহাজ চালক ও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোকে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে। ওই বার্তায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, মঙ্গলবার থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ১৯৭৭ সালের আইইইপিএ সংশ্লিষ্ট শুল্ক কোডগুলো নিষ্ক্রিয় করা হচ্ছে। ফলে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর আর বাড়তি শুল্ক কার্যকর থাকবে না।

২০২৫ সালের ২ এপ্রিল ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নজিরবিহীন শুল্কনীতি ঘোষণা করেছিলেন। সেই নীতি অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে এমন প্রতিটি দেশের ওপর ১০ শতাংশ ‘বেইসলাইন শুল্ক’ এবং বিশেষ ক্ষেত্রে ‘পাল্টাপাল্টি শুল্ক’ (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) আরোপ করা হয়। চীন, ভারত, কানাডা, মেক্সিকো ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের সময় এই শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক মুক্তি’ ও ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) এক আদেশে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের এই শুল্কনীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’-এর অপব্যবহার করছেন। আদালত সাফ জানিয়ে দেন, এই আইন প্রেসিডেন্টকে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী ঢালাওভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্টের এক্তিয়ার বহির্ভূত বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।

শুক্রবার আদালত রায় দিলেও তা মাঠ পর্যায়ে কার্যকর হতে তিন দিন সময় লেগেছে। আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে এই আদেশ কার্যকর হচ্ছে। তবে সর্বোচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়নে কেন তিন দিন সময় লাগল, সে বিষয়ে কাস্টমস ও সীমান্ত সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এই রায়ের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে স্বস্তি ফিরবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত