সুন্দরবন সুরক্ষায় গণসচেতনতা সৃষ্টিতে জাতীয়ভাবে সুন্দরবন দিবস পালন ও সুন্দরবন বিষয়ক আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি নিয়ে খুলনায় পালিত হয়েছে সুন্দরবন দিবস। প্রতিবারের মতো বেসরকারি সংস্থা রূপান্তর, সুন্দরবন একাডেমি ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে মঙ্গলবার খুলনা প্রেসক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে দিবসটি পালনের অংশ হিসেবে আলোচনা সভা, ফটোগ্রাফি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, সুন্দরবন বন বিভাগ এবং এই অঞ্চলের সুন্দরবনপ্রেমী মানুষদের যৌথ উদ্যোগে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুন্দরবন দিবস ঘোষণার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সেইসঙ্গে বনের বৃক্ষ, জলজ এবং প্রাণী সম্পদের সুরক্ষায় সুন্দরবন সন্নিহিত অঞ্চলে সিঙ্গেল ইউজড প্লাস্টিক বন্ধের কোননো বিকল্প নেই। এ জন্য মানুষকে সচেতন করে তোলার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কঠোরতার জন্য অ্যাডভোকেসি করতে সচেতন সব মহলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সুন্দরবন সুরক্ষায় আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে। এছাড়া প্লাস্টিক দূষণ সুন্দরবনের জন্য এক নীরব ঘাতক। এই দূষণ শুধু জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবন হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে না, বরং খাদ্য শৃঙ্খলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক মাছের মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে। প্লাস্টিক বর্জ্য মাটিতে মিশে মাটির উর্বরতা কমিয়ে দিচ্ছে, ফলে কৃষি ও বনজ উৎপাদনকে বিঘ্নিত করছে। সুন্দরবনের নদী, খাল এবং পলির নমুনায় বিভিন্ন আকারের মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার দ্বারা শতভাগ দূষিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই অঞ্চলে মাথাপিছু বার্ষিক গড় প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ১৫.৬৩ কেজি।
সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক, সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাসানুর রহমান ও রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহ। অনুষ্ঠানে ‘সুন্দরবনের গুরুত্ব, বর্তমানের হুমকি এবং সুন্দরবন দিবসের তাৎপর্য’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্বিবিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম। মূল প্রবন্ধে সুন্দরবনের ওপর হুমকি, সুন্দরবন সুরক্ষায় করণীয় বিষয়ে বিষদ তথ্য উপস্থাপন করা হয়। স্বাগত বক্তৃতা করেন রূপান্তরের ইকো সুন্দরবন প্রকল্পের সমন্বয়ক সুভাশীষ ভট্টাচার্য।
এদিকে, সুন্দরবন দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় অর্ধশতাধিক ফটোগ্রাফি স্থান পায়। পুরষ্কৃত হন হাবিবুর রহমান, অজয় দাস, কামরুল আহসান, মিল্টন মন্ডল, রাফিজ সিদ্দিকী। চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় পুরষ্কত হন নেভি অ্যাংকোরেজ স্কুলের নায়লা তাসমিন জাহান, তাসনিম মোশাররফ এবং খুলনা জেলা স্কুলের শৌভিক দে।
উল্লেখ্য, ২০০১ সাল থেকে বেসরকারিভাবে প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন দিবস পালিত হয়ে আসছে। এবছর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে ১৪ ফেব্রুয়ারি পরিবর্তে আলোচনা সভা ২৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়।
