জামায়াতের সর্বোচ্চ কর্মপরিষদে প্রথমবার নারী সদস্য!

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি (কর্মপরিষদ) প্রথমবারের মতো নারী সদস্যদের নাম প্রকাশ করেছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের তালিকা প্রকাশ করা হয়, যেখানে ২১ জন নারী সদস্যের নাম স্থান পেয়েছে।

কর্মপরিষদে অন্তর্ভুক্ত নারী সদস্যরা হলেন-নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, সাঈদা রুম্মান, মারজিয়া বেগম, খোন্দকার আয়েশা খাতুন, সাবিকুন্নাহার মুন্নী, উম্মে নওরিন, হাবিবা আখতার চৌধুরী, খোন্দকার আয়েশা সিদ্দীকা, রোজিনা আখতার, ইরানী আখতার, সালমা সুলতানা, আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন, সুফিয়া জামাল, মাহবুবা জাহান, নাজমুন নাহার, ডা. আমিনা বেগম, শামীমা বেগম, আমেনা বেগম, উম্মে খালেদা জাহান, জান্নাতুল কারীম ও মাহবুবা খাতুন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্যসংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে সদস্য ছিলেন ৩৮৪ জন, সেখানে বর্তমানে সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০২ জনে। এর মধ্যে নারী সদস্য ১১৯ জন, যা আগেরবার ছিল ১১৪ জন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কর্মপরিষদে অন্তর্ভুক্ত অধিকাংশ নারী সদস্যই জামায়াতের মহিলা বিভাগের সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁরা ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়া দলটির আমিরসহ শীর্ষ নেতাদের স্ত্রী ও কন্যাও এই তালিকায় স্থান পেয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, কর্মপরিষদের সদস্য ডা. আমিনা বেগম জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের স্ত্রী। ডা. হাবিবা আখতার চৌধুরী কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের স্ত্রী এবং তিনি ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সাবেক সভানেত্রী। খোন্দকার আয়েশা বেগম শহীদ মীর কাসেম আলীর স্ত্রী ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানের মা; তিনি ছাত্রী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী ছিলেন। সাবিকুন্নাহার মুন্নী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দের স্ত্রী। আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের স্ত্রী। জান্নাতুল কারীম কেন্দ্রীয় নেতা ফখরুদ্দিন মানিকের স্ত্রী। এছাড়া নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, সাঈদা রুম্মান ও নাজমুন নাহার একসময় ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রী ছিলেন।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের তালিকায় সাবেক দুই সংসদ সদস্য এবং নবনির্বাচিত ১৫ জন সংসদ সদস্যের নাম রয়েছে। একই সঙ্গে শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুর রহমান ও আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরের মতো তুলনামূলক নবীন নেতারাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। উল্লেখ্য, আগের কমিটিতে সদস্যসংখ্যা ছিল ৭১; এর মধ্যে নারী ছিলেন ১৫ জন। নতুন কমিটিতে সদস্যসংখ্যা বাড়িয়ে ৮৮ করা হয়েছে।

নারী সদস্যদের নাম আগে প্রকাশ না করার কারণ সম্পর্কে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, অতীতে মামলা-হামলার ঝুঁকি থাকায় নাম প্রকাশ করা হয়নি। এবার প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে নারী সদস্যদের নাম জানানো হয়েছে।

জামায়াতের মহিলা বিভাগ সাংগঠনিকভাবে আলাদা কাঠামোয় পরিচালিত হয় এবং সরাসরি আমির বা তাঁর মনোনীত নেতার তত্ত্বাবধানে কাজ করে। কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম জানান, শরিয়াহভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই নারী ও পুরুষের সাংগঠনিক কাঠামো আলাদা রাখা হয়েছে। ধর্মীয়ভাবে তাদের স্বতন্ত্র সত্তা থাকলেও তারা একে অপরের পরিপূরক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত