চালুর মাত্র আড়াই মাসের মাথায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ চ্যানেল থেকে আধুনিক সী-ট্রাক এসটি নিঝুম দ্বীপ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে নতুন করে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন দ্বীপবাসী। বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই সার্ভিস বন্ধের খবর ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। সামনে পবিত্র ঈদ—এ সময় যাত্রীচাপ বাড়ার আশঙ্কায় দুর্ভোগ আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, সী-ট্রাকটি বুধবার কক্সবাজারের কুতুবদিয়া–মহেশখালী রুটে যুক্ত হতে সন্দ্বীপ চ্যানেল ত্যাগ করে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)-এর মহাব্যবস্থাপক (যাত্রী ও প্রশাসন) গোপাল চন্দ্র মজুমদার বলেন, সার্ভিস শুরুর পর থেকে যাত্রীসংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। লোকসান এড়াতে সী-ট্রাকটি প্রত্যাহার করে পূর্বের জাহাজ এমভি মালঞ্চ পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে যাত্রীদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এমভি মালঞ্চে ওঠানামা ঝুঁকিপূর্ণ—বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে। ২০১৭ সালের ২ এপ্রিল অনুরূপ এক দুর্ঘটনায় ১৮ যাত্রীর মৃত্যুর স্মৃতি এখনো তাজা। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, সন্দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এই সী-ট্রাকটি গত বছরের ১০ ডিসেম্বর বাঁশবাড়িয়া (সীতাকুণ্ড) থেকে গুপ্তছড়া (সন্দ্বীপ) রুটে চলাচল শুরু করে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানের উদ্যোগে সন্দ্বীপ চ্যানেলের উপযোগী করে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। চালুর পর যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সেই স্বস্তি মিলিয়ে গেছে।
যাত্রী আমিনুল হক বলেন, মার্চ থেকে নভেম্বর—এই দীর্ঘ সময়ে স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য সী-ট্রাক অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বশীরুল হকের অভিযোগ, যখন যাত্রীসংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা, ঠিক তখনই লোকসানের অজুহাতে সী-ট্রাক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সন্দ্বীপ চ্যানেলের স্রোতের পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্বীপবাসীর দাবি—নিরাপদ, নিয়মিত ও আধুনিক নৌ-যোগাযোগ নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় অগ্রগতি ব্যাহত হবে। সী-ট্রাক পুনর্বহালের দাবিতে যাত্রী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।
দ্বীপাঞ্চলের মানুষের জন্য নৌপথই জীবনরেখা। সেই জীবনরেখায় সামান্য ছেদও পুরো জনপদের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করে—সন্দ্বীপ চ্যানেলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি যেন তারই বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
