হাসপাতালে যন্ত্রপাতি সরবরাহে সাড়ে ২৭ কোটি টাকার দুর্নীতি

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৪ এএম

বরিশাল মেডিকেল কলেজ (বর্তমানে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালে ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আর্থিক সুবিধা নিয়ে এক ঠিকাদারকে চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শিডিউল কিনতে দেন। এরপর কাগজপত্র ছাড়া দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের শিডিউল দাখিল করলে তা বাতিল হয়ে যায়। আর এ সুযোগে কাজ পেয়ে ৬ কোটি ৪০ লাখ ৫৮ হাজার টাকা তুলে নিয়ে যায় মেসার্স পিপলাই এন্টারপ্রাইজের মালিক। একই কায়দায় আরও কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জালিয়াতির মাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে ২৭ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার টাকার বেশি বিল তুলে নেয়। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের নজরে এসেছে।

অভিযোগসংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রের তথ্য বলছে, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এমএসআর সামগ্রী ও ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য ২০২০ সালের ২ মার্চ টেন্ডার আহ্বান করা হয়। টেন্ডারে অংশ নিতে পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনে এবং চারটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে। এর মধ্যে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রের সঙ্গে কোনো কাগজপত্র না দিয়ে শুধু শিডিউল দাখিল করে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ওই দুটি প্রতিষ্ঠানকে নন-রেসপন্সিভ ঘোষণা করে এবং সত্য কৃষ্ণ পিপলাইয়ের মালিকানাধীন মেসার্স আহসান ব্রাদার্স ও সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাইয়ের মালিকানাধীন মেসাস পিপলাই এন্টারপ্রাইজকে কৃতকার্য দরদাতা হিসেবে বিবেচনা করে। প্রতিষ্ঠান দুটির ঠিকানা বরিশালের ৮৩৭/৮৩৮ নম্বর কাঠপট্টি এবং মোবাইল নম্বর একই বলে টেন্ডারের উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ একই ব্যক্তি দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে দরপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগ রয়েছে, একই ব্যক্তি চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে দরপত্র কিনে ও দাখিল করে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি বিষয়টি না দেখার ভান করে কাজের জন্য মেসার্স আহসান ব্রাদার্স ও পিপলাই এন্টারপ্রাইজকে কাজ দিয়েছে। পরে পিপলাই এন্টারপ্রাইজের মালিক দরপত্রে নন- রেসপন্সিভ হওয়া আর্নিফকো হেলথ কেয়ার এবং মেডিসেফ করপোরেশন থেকে যন্ত্রপাতি নিয়ে হাসপাতালে সরবরাহ করে। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে সরকার নির্ধারিত মূল্য থেকে বেশি মূল্যে যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেন। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্ছা যায়। ক্রয় প্রক্রিয়ায় যোগসাজশ না হলে অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যন্ত্রপাতি কিনলে সরকারি অর্থের সাশ্রয় হতো।

অভিযোগ রয়েছে, মেসার্স পিপলাই এন্টারপ্রাইজ ও আহসান ব্রাদার্স অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহের নামে ৪ কোটি ১৬ লাখ ২৭ হাজার টাকার বিল তুলে নেয়। এ ছাড়া এমএসআর সামগ্রী সরবরাহের নামে আরও ৬ কোটি ৪০ লাখ ৫৮ হাজার এবং ৯৬ লাখ ৩০ হাজার টাকাসহ মোট ৭ কোটি ৩৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকার বিল তুলে নেন। সব মিলিয়ে পিপলাই এন্টারপ্রাইজ ও আহসান ব্রাদার্স অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে ১১ কোটি ৫৩ লাখ ১৫ হাজার টাকার বেশি বিল তুলে নেয়।

শুধু মেসার্স পিপলাই এন্টারপ্রাইজ ও আহসান ব্রাদার্স অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেনি। একই কায়দায় মেসার্স এসঅ্যান্ডটি ড্রাগ হাউজ ৪ কোটি ৫৯ লাখ ৫ হাজার, মেসার্স বিএসএল ড্রাগ হাউজ ৫১ লাখ ২৬ হাজার, মেসার্স অভি ড্রাগ হাউজ ৭৮ লাখ ৪৫ হাজার, মেসার্স দিনা এন্টারপ্রাইজ ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৪২ হাজার, মেসার্স নির্মাণ কনস্ট্রাকশন ৪ কোটি ৬২ লাখ ৩১ হাজার এবং মেসার্স স্টার এন্টারপ্রাইজ ১ কোটি ৯২ লাখ ২৪ হাজার টাকার বিল তুলে নেয়। সব মিলিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান ২৭ কোটি ৫৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকার বিল তুলে নিয়ে যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত