‘আঙ্কেল, আপনি রোজা আছেন?’ প্রধানমন্ত্রীর কাছে এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেয় এক শিশু। জবাবে প্রধানমন্ত্রী শিশুকে বলেন, ‘আমি? আমি তো রোজা রাখি।’ গতকাল শুক্রবার দুপুরে নেভি হেডকোয়ার্টার্স মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নামাজা শেষে বেরিয়ে আসতেই একঝাঁক শিশুর কৌতূহলী চোখের সামনে পড়েন তিনি। শিশুরা তার সঙ্গে করমর্দন করার জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়। প্রধানমন্ত্রী শিশুদের কারও কারও মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। এরই মধ্যে এক শিশু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে প্রশ্ন করে, ‘আঙ্কেল আপনি রোজা আছেন?’ জবাবে তারেক রহমান জানান, তিনি রোজা আছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মসজিদে মহিলাদের জন্য আলাদা স্থানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান নামাজ আদায় করেছেন। নামাজ শেষে প্রধানমন্ত্রী বেরিয়ে যাওয়ার সময়ে শিশু-কিশোরদের কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, তাদের খোঁজখবর নেন। সে সময় শিশুরা উচ্ছ্বসিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে।’ এক শিশু প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দিয়ে বলে, ‘আঙ্কেল আজকেরটা ছাড়া সব রোজা রেখেছি।’ প্রধানমন্ত্রী তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন, ‘তাই!’ অপর পাশ থেকে আরেক শিশু বলে ওঠে, ‘আঙ্কেল আমি সবগুলো রোজা রেখেছি।’ প্রধানমন্ত্রী তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন, ‘ভেরি গুড।’ আরেক শিশু বলে, ‘আমি সবগুলো রোজা রেখেছি, আজকেরটা বাদে।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘ভেরি গুড, কয়টা রোজা, একটা রোজা না তিনটা রোজা?’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে হাসিখুশিতে মেতে ওঠে শিশুরা। পরে মসজিদ থেকে জুবাইদা রহমান বেরিয়ে এলে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বলেন, ‘আল্লাহ হাফেজ।’ এরপর শিশুদের উদ্দেশে হাত নেড়ে বিদায় নিয়ে নিজের গাড়ির দিকে চলে যান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইফতার করেছেন।
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১০ মার্চ বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন কাজ শুরু করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন আগামী ১০ মার্চ পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে এ কার্ড দেওয়া হবে। এর আওতায় প্রতি পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা সহায়তা পাবে। পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচি সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা প্রদানে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত ১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে আরও ১৪ জনকে সদস্য করা হয়েছে। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী, উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ও উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব এবং পরিকল্পনা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব রয়েছেন।
১০ মার্চ বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী : বগুড়া প্রতিনিধি জানিয়েছে গতকাল দুপুর সোয়া ১টার দিকে শিবগঞ্জের মহাস্থানগড় শাহ সুলতান বলখীর (রহ.) মাজারে জুমার নামাজের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেছেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনের জন্য আগামী ১০ মার্চ বগুড়ায় আসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের বগুড়ায় প্রথম সফর হবে এটা।’
এদিকে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডকে নির্বাচন করা হয়েছে। সম্ভাব্য সুফলভোগী পরিবার বাছাইয়ে ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। বগুড়ায় কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে পৃথক জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েও কমিটি করা হয়েছে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্ডধারী প্রতিটি পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। দেশের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরা এ সুবিধার আওতায় আসবেন। প্রতি পরিবারের একজন নারী কার্ডধারী হিসেবে নিবন্ধিত হবেন। একটি ওয়ার্ডে যত পরিবার যোগ্য বিবেচিত হবে, তাদের সবাইকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা রয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে চার মাস পাইলটিং কার্যক্রম চলবে। পরে ধাপে ধাপে প্রতিটি উপজেলায় বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো মীর শাহে আলম নির্বাচনী এলাকা শিবগঞ্জে আসেন। সকালে সড়কপথে ঢাকা থেকে তিনি বগুড়ার শিবগঞ্জে আসেন। নামাজের আগে তিনি শিবগঞ্জে ডাকবাংলো নির্মাণ, মহাস্থানগড় এলাকায় সড়ক নির্মাণ ও শীলা দেবীর ঘাটে ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।