ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসী আয় ৩ বিলিয়ন ডলার

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৬, ১২:১৪ এএম

পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতর কেন্দ্র করে প্রবাসীদের পাঠানো আয়ে চাঙ্গাভাব দেখা গেছে। গত বছর একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। সদ্য সমাপ্ত ফেব্রুয়ারি মাসে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৩০২ কোটি বা ৩ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় উল্লিখিত সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫২ কোটি ডলার।

ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজান ও ঈদ কেন্দ্র করে পরিবারের বাড়তি কেনাকাটা ও খরচ মেটানোর জন্য প্রবাসীরা সবসময়ই বাড়তি অর্থ দেশে পাঠিয়ে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও রেমিট্যান্সে চাঙ্গাভাব পরিলক্ষিত হয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারির পর্যন্ত আট মাসে প্রবাসীরা ২ হাজার ২৪৫ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরে একই সময় রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৮৪৯ কোটি মার্কিন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর প্রথম মাস জানুয়ারিতে এসেছিল ৩১৭ কোটি বা ৩ দশমকি ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। একক মাস হিসেবে এই অঙ্ক দেশে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে গত বছর শেষ মাস ডিসেম্বরে দেশে প্রবাসী আয় আসে ৩২২ কোটি ডলার, যা একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় ৩২৯ কোটি ডলার ছিল গত বছর মার্চে। তখন ঈদুল ফিতরের সময় প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫ সালে দেশের মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার।

চলতি অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স হিসাব করলে দেখা গেছে, জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার এবং জানুয়ারিতে এসেছিল ৩১৭ কোটি ডলার।

রেমিট্যান্সের এ ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবণতা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকেও শক্ত ভিত দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী, রিজার্ভ হয়েছে ৩০ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসাও কমেছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকার কারণে বৈধপথে প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতিতে প্রবাহিত হচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত