বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ১২তম আসরের বকেয়া পারিশ্রমিক বুঝে পেয়েছেন সিলেট টাইটানস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস দলের ক্রিকেটাররা। রবিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কার্যালয়ে ক্রিকেটারদের হাতে পারিশ্রমিকের চেক বুঝিয়ে দিয়েছেন বিপিএল-এর গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ও বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু। এর মাধ্যমে বিপিএলে অংশ নেওয়া ৬ দলের ভেতর ৫ দলের ক্রিকেটারদের পাওয়ান বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন মিঠু। বাকি আছে কেবল ঢাকা ক্যাপিটালসের ক্রিকেটারদের পাওনা পরিশোধ।
বিসিবি কার্যালয়ের সামনে মিঠু সাংবাদিকদের জানান, ‘এখন আমার পাঁচটা দল হলো যারা সব পাওনা পরিশোধ করেছে। এখন আমার কাছে শুধু বাকি হচ্ছে ঢাকা।’ বিপিএলে অংশ নিয়েছিল ৬টি ফ্র্যাঞ্চাইজি, যার একটি চট্টগ্রাম রয়্যালস ছিল বিসিবির মালিকানায়। বিপিএলের খেলোয়াড়দের পাওনা পরিশোধ নিয়ে সবসময়ই একটি বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এবার ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কাছ থেকে আগাম ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়ে রেখেছিল বিসিবি, সেখান থেকেই পাওনা শোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মিঠু, ‘আমরা অনেককে বলেছি যে আমরা ফাইনান্সিয়াল ইনস্ট্রুমেন্ট একটা গ্যারান্টি নিয়েছিলাম। সেই গ্যারান্টির মধ্যে কিছু চেক ছিল, কিছু পে-অর্ডার ছিল এবং কিছু ব্যাংক গ্যারান্টিও ছিল। আজ সিলেট এবং বাকিরা বলছে যে আপনারা আমাদের এই টাকাটা হোল্ড করছেন আমাদের বাকি প্লেয়ারদের জন্য। আমাদের সামনেই তারা সব প্লেয়ারদের পেমেন্ট ক্লিয়ার করেছে, আমরা তাদের থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে নিয়েছি। এখন আমার পাঁচটা টিম হলো যে ক্লিয়ার অল পেমেন্ট। রংপুর তো জানেনই সবসময় রংপুর একটা গুড পে-মাস্টার, রংপুরের থেকে আমরা কোনো কমপ্লেনও পাইনি। বাকি চারটা টিম আমাদের কাছে সার্টিফিকেট আছে। এখন আমার কাছে শুধু বাকি হচ্ছে ঢাকা। ঢাকার ক্রিকেটারদের পাওনা প্রসঙ্গে বিপিএলের সদস্য সচিব জানিয়েছেন, ‘এই ঢাকার পাঁচ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি ধরা আছে এবং পাঁচ কোটি টাকার চেক আছে। ঢাকার যে পাওনার লিস্টটা দিয়েছে, আজ আমরা ঢাকার ক্যাপ্টেনকে ডেকেছিলাম। সব প্লেয়ারদের সঙ্গে এটা রিকনসাইল করে আমরা এখন ঢাকাকে চিঠি দেব’। ঢাকার ক্রিকেটারদের পাওনা পরিশোধে আর কতদিন সময় লাগবে, এই প্রশ্নের জবাবে মিঠু জানিয়েছেন, ‘আর তিন-চার দিন, এই সপ্তাহ পর্যন্ত আমি ওয়েট করতে পারি।’ একই সঙ্গে মিঠু জানিয়েছেন, ঢাকার ক্রিকেটারদের ভেতর যারা সরাসরি চুক্তিতে দলভুক্ত হয়েছেন, তারা কেবল ভিত্তিমূল্য পাবেন, ‘আপনারা জানেন আমরা যখন প্রথমে বলেছি আমরা ডাইরেক্ট সাইনিং প্লেয়ারদের অকশনের প্রাইসটা দিয়েছি অর্থাৎ বেস প্রাইস।’ দেশের ক্রিকেটারদের ভেতর তাসকিন আহমেদ ও সাইফ হাসান সরাসরি চুক্তিতে ঢাকা ক্যাপিটালসে যোগ দিয়েছিলেন। তাসকিন ছিলেন এ ক্যাটাগরিতে, ভিত্তিমূল্য ৫০ লাখ টাকা ও সাইফ হাসান ছিলেন ক্যাটাগরি ‘বি’তে, ভিত্তিমূল্য ছিল ৩৫ লাখ টাকা। কেন সরাসরি চুক্তিতে আবদ্ধ ক্রিকেটাররা ভিত্তিমূল্যের বেশি পাবেন না এই প্রসঙ্গে মিঠু জানিয়েছেন, ‘আজ আপনি মিরাজ বলেন বা অন্য কেউ, ওদের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজির কি চুক্তি ছিল আমরা জানি না, তবে বিসিবি ভিত্তিমূল্যের গ্যারান্টি নিয়েছে। কারও যদি ১৮ লাখের ভিত্তিমূল্য থাকে কিন্তু সে ৭০ লাখে বিক্রি হয়, তাকে ১৮ লাখ টাকা দেওয়া হবে (বিসিবির গ্যারান্টি অনুযায়ী)। ডাইরেক্ট সাইনিং যারা তাদের তো আমার একটা বেঞ্চমার্ক রাখতে হবে। আমি কীভাবে জানব যে ঐটা সঠিক। এ জন্যই বেঞ্চমার্কটা দেওয়া হয়েছিল যে ভিত্তিমূল্য।’ সিলেট টাইটানসের বকেয়া পারিশ্রমিক ও বিসিবি’র কাছে পাওনা অর্থের মধ্যে ২৩ লাখ টাকার একটা ঘাটতি ছিল। সেটা কীভাবে পূরণ হয়েছে এমন প্রশ্নে মিঠু জানিয়েছেন, ‘না না, বিসিবি টাকা দেয়নি। ওরা কাল রাতে এই টাকা আলাদা পেমেন্ট করে দিয়েছে এবং আমাদের কাছে হিসাব দিয়েছে যে পাওনা ছিল দেড় কোটি টাকা।’ বিসিবি’র দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দেশ রূপান্তর যোগাযোগ করে সিলেট টাইটানসে খেলা পেসার এবাদত হোসেনের সঙ্গে। এবাদত জানিয়েছেন তিনি শতভাগ পাওনা বুঝে পেয়েছেন।
