বাগেরহাটের শরনখোলায় আরিফুল ইসলাম মাসুম (৩০) নামে ছাত্রদলের সাবেক এক কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত ইসলামীর কর্মীদের বিরুদ্ধে। রবিবার (১মার্চ) রাতে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় সোমবার (২মার্চ) সকালে নিহতের ভাই মো. শহীদুল ইসলাম বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১২জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, খলিল বয়াতি, শাহজালাল বয়াতি ও তানজের হাওলাদার। তাদের বাড়ি সোনাতলা গ্রামে। তারা সবাই জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক বলে জানা গেছে।
এদিকে, সোমবার দুপুরে নিহত ব্যক্তির ময়না তদন্ত বাগেরহাট ২৫০শয্যার জেলা হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। নিহত আরিফুল ইসলাম মাসুম শরণখোলা উপজেলার খুড়িয়াখালী গ্রামের আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে। স্থানীয়দের বরাতে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ছাত্রদল কর্মীর মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও করাকে কেন্দ্র স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধের জেরে রবিবার রাত নয়টার দিকে ছাত্রদল কর্মী আরিফুল ইসলাম সোনাতলা গ্রামে তার শ্বশুড়বাড়ির যাওয়ার পথে জামায়াতের কর্মীদের সাথে দেখা হয়। এসময় ওই জামায়াত কর্মীদের সাথে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে মারামারি হয়। তাদের এলোপাথারি মারধরে আরিফুল রাস্তায় অচেতন হয়ে পড়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে মারধরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জামায়াতের তিনকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। নিহতের ভাইয়ের দায়ের করা মামলায় ওই তিনজন এজাহারনামীয় আসামী। সোমবার দুপুরে নিহতের ময়না তদন্ত বাগেরহাট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। অন্য জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এবিষয়ে জানতে বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলীমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
